BrahMos Missiles to Indonesia: অস্ত্র থেকে ব্রহ্মোস: ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে বড় ইনিংস ভারতের

BrahMos Missiles to Indonesia: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এবার ভারত মহাসাগরে নিজস্ব ‘হরমুজ প্রণালী’ নির্মাণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

Published on: Jul 8, 2026, 11:52:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

BrahMos Missiles to Indonesia: ভারতের থেকে ব্রহ্মোস মিসাইল কেনার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কথাবার্তা চালাচ্ছিল ইন্দোনেশিয়া। অবশেষে মঙ্গলবার চুক্তিতে সিলমোহর পড়ল। জাকার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর উপস্থিতিতে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এয়ার-টু-এয়ার ‘অস্ত্র’ মিসাইল সরবরাহের চুক্তিতে সই করেছে দুই দেশ। চুক্তির আনুমানিক মূল্য ৫,৩০০ কোটি টাকা।

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে বড় ইনিংস ভারতের (@narendramodi)
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে বড় ইনিংস ভারতের (@narendramodi)

ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলাকালীন সারা বিশ্ব হরমুজ প্রণালীর শক্তি ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিল। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এবার ভারত মহাসাগরে নিজস্ব ‘হরমুজ প্রণালী’ নির্মাণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এটি হল সাবাং বন্দর, মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশপথে অবস্থিত। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ইন্দিরা পয়েন্ট এখান থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই পদক্ষেপ ভারত মহাসাগরে চিনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে বছরে ২৩ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল এবং আনুমানিক ৩-৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বাণিজ্য চলাচল করে। সাবাং বন্দর এই গুরুত্বপূর্ণ পথটিকে যে কোনও বেসরকারি বা রাষ্ট্রীয় শক্তির হাত থেকে আরও সুরক্ষিত করবে।

সবথেকে বড় ব্যাপার, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রগুলির কৃতিত্ব গোটা পৃথিবী দেখেছে। সেই কারণেই এবার ইন্দোনেশিয়া ভারতের থেকে অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ভারত-ইন্দোনেশিয়া ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া ভারতের থেকে বিপুল পরিমাণ ব্রহ্মোস আমদানি করবে বলেই প্রতিরক্ষা মহল সূত্রে খবর। তবে দুই দেশের এই আলোচনায় সবথেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছি অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র আমদানি করার চুক্তি। প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা বজায় রাখা হলেও, ইন্দোনেশিয়া প্রথমে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র-সহ ব্রহ্মোসের একটি ব্যাটারি কেনার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল। তবে এবার মোট ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি মিসাইল ব্যাটারির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিমধ্যে ভারতের সুখোই যুদ্ধবিমানে যুক্ত রয়েছে। অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্রের পরিমাণ কত হবে তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও, এই এয়ার-টু-এয়ার নিক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র ইন্দোনেশিয়ার সিইউ-৩০ মার্ক ১ এবং ২ যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত করা হবে। জানা গেছে, এর খরচ সংক্রান্ত আলোচনা এবং চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে শীঘ্রই দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কাজ শুরু করবে।

২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদী সরকার বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাকার্তা নিজেকে জড়াতে চায় না। তা ছাড়া ওয়াশিংটন এখন বেজিংয়ের সঙ্গে সরাসরি (ওয়ান টু ওয়ান) আলোচনা করতে আগ্রহী হওয়ায়, ইন্দোনেশিয়াও ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দক্ষিণ চিন সাগরে প্রবেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ চেক পয়েন্ট বা জলপথ-মালাক্কা, সুন্দা, লম্বক এবং ওম্বি-ওয়েটার-সবই তাদের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি কোস্ট গার্ড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একযোগে কাজ করবে।