India Sends Diesel to Bangladesh: ফের ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল, ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে পৌঁছল প্রায় ৪০০০ মেট্রিক টন তেল
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এই ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছরের জন্য প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই ভারত থেকে বাংলাদেশে পাইপলাইনে করে ডিজেল পাঠানোর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।
বাংলাদেশে ফের ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হল। গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে ডিজেল প্রবাহ শুরু হয়। প্রায় দেড় দিনের প্রক্রিয়া শেষে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমদানি করা সম্পূর্ণ ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে যায়। এই দফায় ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছয় গিয়ে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে এই পাইপলাইন এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এই ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছরের জন্য প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই ভারত থেকে বাংলাদেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল পাঠানোর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ এই পাইপলাইন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তারপর থেকে ভারত থেকে এই ব্যবস্থায় মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ, ১৫ বছরের চুক্তির আওতায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের জন্য যে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তার ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে।
আমদানি করা ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছনোর পর তা দেশের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থার মধ্যে প্রায় সমহারে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই তিন সংস্থা হল পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল। ফলে ভারত থেকে আসা ডিজেল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের ক্ষেত্রে এই সরকারি সংস্থাগুলিই মূল ভূমিকা পালন করে।
ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ১২৬.৫৭ কিলোমিটার। এই পাইপলাইন উত্তর বাংলাদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর এবং বোদা উপজেলা পেরিয়ে পাইপলাইনটি নীলফামারী সদর এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার মধ্য দিয়ে পৌঁছেছে পার্বতীপুরের রিসিভ টার্মিনালে।
প্রকল্পটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পাইপলাইনটি মাটির প্রায় পাঁচ থেকে আট ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে রাস্তা বা জনবসতির উপর দিয়ে জ্বালানি পরিবহণের প্রয়োজন কমে এবং নির্দিষ্ট পরিকাঠামোর মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিকভাবে ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়।
উত্তর বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পার্বতীপুর ডিপোর গুরুত্ব অনেক। তাই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল পৌঁছে যাওয়ায় পরিবহণের সময় ও খরচ কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে সড়ক ও রেলপথের ওপর বেশি নির্ভরতা থাকলেও পাইপলাইনের ফলে সেই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
ভারত-বাংলাদেশের জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবেও দেখা হয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারতীয় জ্বালানি সংস্থাগুলির জন্যও এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
চলতি দফায় ১২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ডিজেল প্রবাহ শুরু হওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে পুরো চালান পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে যাওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতাও ফের সামনে এসেছে। আগামী দিনে ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী আরও বিপুল পরিমাণ ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের এই পাইপলাইন শুধু একটি জ্বালানি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পার্বতীপুরমুখী এই পাইপলাইন আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


