সাগরে নতুন সম্রাট! হাঁটু কাঁপবে চিনের, শীঘ্রই তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করছে ভারত
পারমাণবিক সাবমেরিনের মোটামুটি দু’টি শ্রেণি রয়েছে। যার অন্যতম হল ‘শিপ সাবমার্সিবল ব্যালেস্টিক নিউক্লিয়ার’ বা এসএসবিএন।
দক্ষিণ চিন সাগরের পর ভারত মহাসাগরেও এখন অস্ত্র প্রতিযোগিতা জোরদার হচ্ছে। চিনা নৌসেনার বাড়তে থাকা উপস্থিতির মধ্যে, ভারত এখন তার তৃতীয় পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে। আর মাত্র মাস দুই। তারমধ্যেই জলে ভাসতে চলেছে ভারতের তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন 'আইএনএস অরিদমন।' এটি ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

বেসরকারি সংস্থা লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলএনটি)-র তত্ত্বাবধানে বিশাখাপত্তনমের জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র (এসবিসি)-এ সাবমেরিনটি তৈরি হয়েছে। তৈরি হওয়ার পর কয়েক মাস ধরে সমুদ্রে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়। নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর এবার ভারতের বাহিনীতে যোগ দিতে চলেছে। এই সাবমেরিন গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করে। গভীরে নীরবে লুকিয়ে থাকা এই সাবমেরিনের অবস্থান জানা কার্যত অসম্ভব, যতক্ষণ না ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। পরমাণু যুদ্ধের সময় এই ধরনের কোনও সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে এই প্রথম নয়। ভারতের হাতে রয়েছে আরও দু’টি পারমাণবিক সাবমেরিন। সেগুলি হল ‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত।' বলে রাখা ভালো, পারমাণবিক সাবমেরিনের মোটামুটি দু’টি শ্রেণি রয়েছে। যার অন্যতম হল ‘শিপ সাবমার্সিবল ব্যালেস্টিক নিউক্লিয়ার’ বা এসএসবিএন। এরা এক দিকে যেমন পরমাণু শক্তি দ্বারা চালিত, পাশাপাশি পারমাণবিক হামলাতেও সক্ষম।
এই প্রসঙ্গে এনডিটিভি-কে ভাইস অ্যাডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) অনিল কুমার চাওলা বলেন, আইএনএস অরিদমন ভারতের জলের নিচের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এই ডুবোজাহাজে ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কে-১৫ এবং অনির্দিষ্ট সংখ্যক কে-৪ পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল থাকবে, যার পাল্লা ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এই সাবমেরিনে থাকবে ভারতের বিভিন্ন ব্যালেস্টিক মিসাইল। বর্তমান যুদ্ধ রণকৌশল অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সমস্ত পারমাণবিক পরিকাঠামো ধ্বংস করতে চায় অন্য কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। সেই জন্য বিকল্প পরিকাঠামো হাতে থাকা জরুরি। কারণ স্থলভাগে থাকা পারমাণবিক পরিকাঠামনোগুলিতে কেউ হমালা চালাতে পারলেও, সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে থাকা পরমাণু অস্ত্রের ক্ষতি করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, পারমাণবিক সাবমেরিক কখন কোথায় লুকিয়ে থাকা তা প্রতিপক্ষের কাছে বুঝে ওঠা কঠিন। এদিকে, ‘অরিদমন’কে নিয়ে ভারতের হাতে মোট তিনটি পারমাণবিক সাবমেরিন থাকবে। মূলত, ১৯৭১-এর যুদ্ধের পরেই এই ধরণের পারমাণবিক সাবমেরিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল ভারত। এর বহু বছর পর ২০১৬ সালে প্রথম পারমাণবিক সাবমেরিন ‘অরিহন্ত’ ভারতের হাতে আসে। তারপর ‘অরিঘাত’, এবার ‘অরিদমন’ কাজ শুরু করতে চলেছে।
E-Paper

