India tour of Bangladesh Update: ইউনুসের পর তারেক রহমানের জমানায়ও কি ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ? শেষ সিদ্ধান্ত দিল্লির
আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতীয় দলের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই সফরের সূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই একই সময়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার কথা জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়েছিল দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও। এবার বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ক্ষত সারবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আপাতত ক্রিকেটমহলে আশার আলো খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং ভারতীয় দলের আসন্ন বাংলাদেশ সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতীয় দলের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই সফরের সূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই একই সময়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার কথা জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। সফর শুরু হতে আর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। এমন পরিস্থিতিতে বাস্তবে সিরিজ আয়োজন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইউনুস সরকারের সময়ে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ এবং তা নিয়ে ভারতে তৈরি হওয়া ক্ষোভের প্রভাব ক্রিকেটেও পড়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
এর পর বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও গভীর প্রভাব পড়ে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার স্পষ্ট কোনও বার্তা মেলেনি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভারতীয় দল কি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরে যাবে? বিসিসিআই অবশ্য এখনও সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেনি। বোর্ডের এক সূত্রের দাবি, সরকারের সঙ্গে এখনও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনারের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিসিসিআই সূত্রের মতে, দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্ক এখনও ভালো রয়েছে। তাই কূটনৈতিক ও সরকারি স্তরে সবুজ সংকেত মিললে নির্ধারিত সিরিজের জন্য ভারতীয় ক্রিকেটারদের সময় বের করে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ ক্রিকেট বোর্ডের দিক থেকে দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত এখন সরকারের হাতে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক পরিবেশ পর্যালোচনা করেই ভারত সরকার সফরের অনুমতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত শুভমন গিলদের বাংলাদেশ সফর হবে কি না, তার উত্তর বিসিসিআইয়ের হাতে একা নেই।
আরও একটি সমস্যা হল, একই সময়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভারতীয় দলের সূচিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সফর করতে হলে সূচিতে নতুন করে সমন্বয় করতে হবে। বিসিসিআইয়ের অন্দরের বার্তা, প্রয়োজনে সেই কাজ করা সম্ভব, কিন্তু তার আগে সরকারের অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমানের জমানায় ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন পথে এগোয় কি না, তার প্রভাব যে ক্রিকেটেও পড়বে, তা স্পষ্ট। ক্রিকেট দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সেতু হিসেবেও কাজ করেছে অতীতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সেতু আবার শক্তিশালী হবে, নাকি দুই দেশের মাঠে ফের দেখা হওয়ার অপেক্ষা আরও বাড়বে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আপাতত বিসিসিআই আশা ছাড়েনি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি দিল্লির হাতে। সরকারি অনুমতি মিললেই ভারতীয় দল বাংলাদেশে যেতে পারে। আর অনুমতি না মিললে, আফগানিস্তান সিরিজেই দেখা যেতে পারে শুভমন গিলদের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


