India U20 Beats Bangladesh: ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান! বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ভারত

মরণবাঁচন ম্যাচে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ার সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার টিকিট নিশ্চিত করল মহেশ গাওলির তরুণ দল। তবে শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই চলত না। অন্য ম্যাচে উজবেকিস্তান সিরিয়াকে ২-০ গোলে হারানোয় ভারতের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্নও বাস্তবে পরিণত হয়।

Published on: Sep 6, 2026, 22:22:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ভারত। মরণবাঁচন ম্যাচে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ার সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার টিকিট নিশ্চিত করল মহেশ গাওলির তরুণ দল। তবে শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই চলত না। অন্য ম্যাচে উজবেকিস্তান সিরিয়াকে ২-০ গোলে হারানোয় ভারতের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্নও বাস্তবে পরিণত হয়।

মরণবাঁচন ম্যাচে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ার সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার টিকিট নিশ্চিত করল মহেশ গাওলির তরুণ দল।
মরণবাঁচন ম্যাচে প্রতিবেশী বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ার সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার টিকিট নিশ্চিত করল মহেশ গাওলির তরুণ দল।

উজবেকিস্তানের তাসখন্দে ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ভারত। আগের ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে হারের পর মূল পর্বে ওঠার রাস্তা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল কার্যত ‘ডু অর ডাই’। জিতলেই দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হত। সেই চাপের ম্যাচেই কোনও ভুল করেনি ভারতের তরুণ ফুটবলাররা।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে ভারত প্রথম গোল পেয়ে যায়। বাংলাদেশের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ড্যানি লাইশ্রাম। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। এরপর প্রথমার্ধে আরও গোল করার সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার পরাস্ত করতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ভারত। ৬০ মিনিটে আসে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। দীর্ঘ থ্রো-ইন থেকে বল বাংলাদেশের বক্সে এসে পড়ে। বলটি বিশাল যাদবের কিছুটা পিছনে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু ১৮ বছরের উত্তরপ্রদেশের এই ফুটবলার অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে ব্যাক ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দেন। এমন গোল মুহূর্তেই ম্যাচের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে। ভারতের ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

তৃতীয় গোলটিও আসে দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে। নিজেদের বক্সের কাছ থেকে শুরু হওয়া আক্রমণ কয়েকটি পাসে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের পেনাল্টি বক্সে। ৭৮ মিনিটে সেই আক্রমণের শেষ পরিণতি হয় আরও এক গোল। ফলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল না হওয়ায় বড় জয় নিশ্চিত করে ‘ব্লু কোল্টস’রা।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়ের পর অবশ্য ভারতের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কারণ মূল পর্বে ওঠার জন্য দলের তাকিয়ে থাকতে হত একই গ্রুপের উজবেকিস্তান ও সিরিয়ার ম্যাচের দিকে। ভারত ৩-০ গোলে জিতলেও উজবেকিস্তান যদি পয়েন্ট হারাত, তবেই সমীকরণ অন্যরকম হতে পারত।

কিন্তু সেই ম্যাচেও স্বস্তির খবর আসে ভারতের জন্য। উজবেকিস্তান ২-০ গোলে সিরিয়াকে হারিয়ে তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নেয়। ফলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে মূল পর্বে যায় উজবেকরা। ভারত ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বের টিকিট পেয়ে যায়।

গ্রুপ পর্বের শুরুতে সিরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল ভারত। এরপর উজবেকিস্তানের কাছে হারায় চাপ বাড়ে। সেই ধাক্কা সামলে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।

দীর্ঘ দুই দশক পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারতের এই প্রত্যাবর্তন দেশের যুব ফুটবলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। মহেশ গাওলির দলের সামনে এবার আরও কঠিন পরীক্ষা। এশিয়ার মূল মঞ্চে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে ভারতের এই নতুন প্রজন্ম।

বাংলাদেশকে হারিয়ে টিকিট নিশ্চিত করার পর এখন ভারতীয় যুব দলের লক্ষ্য একটাই—মূল পর্বের মঞ্চে গিয়ে এই সাফল্যকে আরও বড় করে তোলা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More