India Vs Pakistan Handshake Row: মহিলা এশিয়া কাপে ভারত-পাক ক্রিকেটারদের হ্যান্ডশেক নিয়ে জল্পনার অবসান
এই ‘নো হ্যান্ডশেক’ পরিস্থিতির শুরু ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। দুবাইয়ে সেদিন এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। তার আগে এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল। এরপর মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই শুধু ২২ গজের লড়াই নয়। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়াও এখন বারবার দেখা যাচ্ছে মাঠে। তারই একটি বড় উদাহরণ দুই দলের অধিনায়কের টসের সময় হাত না মেলানো। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকে শুরু হওয়া এই ছবি এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের মহিলা এশিয়া কাপেও দেখা গেল একই ঘটনা। ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক ফতিমা সানা টসের সময় একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি।

এই ‘নো হ্যান্ডশেক’ পরিস্থিতির শুরু ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। দুবাইয়ে সেদিন এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। তার আগে এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল। এরপর মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই আবহেই দীর্ঘ বিরতির পর ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দল। ফলে ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আগা প্রচলিত নিয়মে হাত মেলাননি। ম্যাচ শেষেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায়নি সেই পরিচিত সৌজন্যের দৃশ্য। ভারতের সাত উইকেটে জয়ের পর সূর্যকুমার সেই জয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে উৎসর্গ করেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তান শিবিরে অসন্তোষও দেখা দেয়। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধান কোচ মাইক হেসন প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তাঁর দল হাত মেলানোর জন্য প্রস্তুত ছিল এবং ভারতীয় দলের সিদ্ধান্তে তারা হতাশ।
এরপর এশিয়া কাপের পরের ম্যাচেও একই ছবি দেখা যায়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টসের সময় দুই অধিনায়ক আবারও হাত মেলাননি। এমনকি সেই টুর্নামেন্টে দুই দল মোট তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল এবং প্রতিবারই এই সৌজন্য বিনিময় এড়ানো হয়। ফলে বিষয়টি আর একটি ম্যাচের বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকেনি। ধীরে ধীরে এটি দুই দলের ক্রিকেট সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা হয়ে ওঠে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য বিতর্কও হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ম্যাচের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, টসের আগে দুই অধিনায়ককে হাত না মেলাতে বলা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে পরে নানা বক্তব্য সামনে আসে এবং ঘটনাটি ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
পরিস্থিতি ২০২৬ সালেও বদলায়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচেও টসের সময় সূর্যকুমার যাদব ও সলমন আলি আগার মধ্যে হাত মেলানো হয়নি। অর্থাৎ ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে শুরু হওয়া সেই রীতি আরও একটি বড় মঞ্চে গড়ায়।
এবার মহিলা এশিয়া কাপেও একই ছবি সামনে আসায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুবাইয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মহিলা দল মুখোমুখি হয়। টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর এবং পাকিস্তানের ফতিমা সানা হাত মেলাননি। অর্থাৎ পুরুষ ক্রিকেটের পর একই প্রবণতা মহিলা ক্রিকেটেও দেখা যাচ্ছে।
তবে খেলাধুলার মাঠে এমন রাজনৈতিক উত্তেজনা সব ক্ষেত্রেই একই রকম নয়। সাম্প্রতিক একটি ভারত-পাকিস্তান হকি ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের একে অপরকে হাই-ফাইভ করতে দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের সব জায়গায় ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি দেখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে হাত মেলানো এখন শুধু একটি সাধারণ সৌজন্য নয়। সেটি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর যে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালেও তার প্রভাব স্পষ্ট। ২২ গজে ক্রিকেট চলছে, ম্যাচ হচ্ছে, টস হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও থাকছে। কিন্তু টসের মুহূর্তে সেই একটি হাত মেলানো এখনও অনুপস্থিত। ফলে প্রশ্ন থাকছেই—দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কি ক্রিকেট মাঠেও এই দূরত্ব বজায় থাকবে?
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


