HAL Tejas Update: প্রথম ব্যাচ এখনও বায়ুসেনার হাতে পৌঁছায়নি, ২০২৭ থেকে দ্বিতীয় দফার ৯৭ তেজস এমকে-১এ ডেলিভার করবে হ্যাল?
হ্যাল চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তেজস এমকে-১এ-এর ক্ষেত্রে এখন মূলত শেষ ধাপের সংশোধন বা ‘লাস্ট মাইল’ কাজ চলছে। কয়েকটি রাডার সংক্রান্ত বিষয় এখনও সমাধান করা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধাস্ত্র সংযুক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয়নি।
ভারতের দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস এমকে-১এ নিয়ে বড় খবর সামনে এসেছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যাল-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবি কে জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানের রাডার সংক্রান্ত কয়েকটি সমস্যা এবং অস্ত্র সংযুক্তির শেষপর্বের পরীক্ষা দ্রুত সম্পূর্ণ করার কাজ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বর থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে।

হ্যাল চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তেজস এমকে-১এ-এর ক্ষেত্রে এখন মূলত শেষ ধাপের সংশোধন বা ‘লাস্ট মাইল’ কাজ চলছে। কয়েকটি রাডার সংক্রান্ত বিষয় এখনও সমাধান করা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধাস্ত্র সংযুক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয়নি। তাঁর আশা, প্রায় এক মাসের মধ্যে এই সমস্যাগুলি মিটিয়ে বিমানকে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই তেজস এমকে-১এ-এর জন্য দুটি বড় অর্ডার দিয়েছে। প্রথম চুক্তিতে ৮৩টি বিমান এবং দ্বিতীয় চুক্তিতে আরও ৯৭টি বিমান রয়েছে। অর্থাৎ মোট ১৮০টি তেজস এমকে-১এ বায়ুসেনায় যুক্ত হওয়ার কথা। দুটি চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ১.১ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম চুক্তির বিমানগুলির সরবরাহ দিয়েই পর্বটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এইচএএল-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ১০টি তেজস এমকে-১এ বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রবি কে জানিয়েছেন, জিই অ্যারোস্পেস থেকে ১০টি ইঞ্জিন পাওয়া গিয়েছে এবং ২৭টি তেজস এমকে-১এ-এর কাঠামো বা এয়ারফ্রেম প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর মতে, ইঞ্জিন সরবরাহ ঠিক থাকলে এই ১০টি বিমান সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তেজস এমকে-১এ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি ছিল ইঞ্জিন সরবরাহ। আমেরিকার জিই অ্যারোস্পেসের তৈরি এফ৪০৪-আইএন২০ ইঞ্জিন সময়মতো না পৌঁছনো এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় আগের নির্ধারিত সরবরাহ সূচি পিছিয়ে যায়। ২০২১ সালের প্রথম চুক্তি অনুযায়ী বিমান সরবরাহ ২০২৪ সালের মার্চে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। এইচএএল এখন ইঞ্জিন সরবরাহের সঙ্গে উৎপাদনকে যতটা সম্ভব সমন্বয় করার চেষ্টা করছে।
রবি কে জানিয়েছেন, এইচএএল প্রতি বছর প্রায় ২৪টি তেজস এমকে-১এ তৈরি করার সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। ইঞ্জিনের ঘাটতি থাকলেও বিমান তৈরির কাজ পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং ইঞ্জিন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে দ্রুত বিমান সম্পূর্ণ করা যায়, সেজন্য আগে থেকেই এয়ারফ্রেম তৈরি করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদনের গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দ্বিতীয় চুক্তির ৯৭টি তেজস এমকে-১এ-তে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ৯৭টি বিমানে ৬৪ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদান থাকবে। এর মধ্যে দেশীয় ‘উত্তম’ এএসএ রাডার, ‘স্বয়ম রক্ষা কবচ’ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা-সহ একাধিক প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম চুক্তির বিমানে ব্যবহৃত প্রায় ৪০টি আমদানি করা ব্যবস্থাকেও ধীরে ধীরে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।
এর পাশাপাশি আরও উন্নত তেজস এমকে-২-এর কাজও এগোচ্ছে। এইচএএল জানিয়েছে, এমকে-২ বিমানের মূল কাঠামোর বিভিন্ন অংশ জোড়ার কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে প্রথম ভূমি পরীক্ষা এবং একই বছর প্রথম উড়ানের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এমকে-২-এর জন্য আরও শক্তিশালী এফ৪১৪ ইঞ্জিন দেশে যৌথভাবে তৈরির বিষয়েও জিই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান বহরে বর্তমানে অনুমোদিত ৪২.৫টি স্কোয়াড্রনের তুলনায় প্রায় ৩০টি স্কোয়াড্রন রয়েছে। ফলে নতুন তেজস এমকে-১এ দ্রুত যুক্ত করা বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বছর শেষে সরবরাহ শুরু হলে দেশীয় যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে সেটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


