Indian Ambassador on Palestine: রাষ্ট্রসংঘে আরবিতে ভারতের বার্তা, ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে সওয়াল
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পর্বতনেনি হরিশ বলেন, গাজায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং মানবিক সংকট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে সংঘাত কমানো, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) ফিলিস্তিন ইস্যুতে আবারও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতনেনি হরিশ। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি আরবি ভাষায় বক্তব্য রাখেন এবং গাজায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় ভারতের অব্যাহত সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পর্বতনেনি হরিশ বলেন, গাজায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং মানবিক সংকট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে সংঘাত কমানো, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বর্তমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
ভারতের প্রতিনিধি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করে আসছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র, যা নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে, সেটাই স্থায়ী শান্তির একমাত্র বাস্তব পথ।
পি. হরিশ তাঁর বক্তৃতায় ফিলিস্তিনের উন্নয়নে ভারতের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ভারত শুধু কূটনৈতিক স্তরেই নয়, উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ফিলিস্তিনের পাশে রয়েছে। ফিলিস্তিনে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সহায়তা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ফিলিস্তিনকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন ভারতের রাষ্ট্রদূত।
আরবি ভাষায় বক্তব্য রাখার মাধ্যমে পি. হরিশ শুধু কূটনৈতিক বার্তাই দেননি, আরব বিশ্বের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি ভারতের সংহতির বার্তাও তুলে ধরেন বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
বর্তমানে গাজায় চলমান সংঘাতের জেরে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের বার্তা ছিল স্পষ্ট—গাজায় রক্তপাত বন্ধ করতে হবে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। পাশাপাশি মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


