Indian Army Chief meeting with Nepal PM Balen: ভারতীয় সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বালেন্দ্র শাহ, ভাঙলেন নিজের তৈরি নিয়ম

মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান ধীরজ শেঠ। কাঠমান্ডুর সিংহ দরবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক হয়। আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ এবং সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার উপায় নিয়ে কথা হয়েছে। 

Published on: Aug 19, 2026, 08:10:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian Army Chief meeting with Nepal PM: ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাঠমান্ডুর সিংহ দরবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক হয়। আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ এবং সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার উপায় নিয়ে কথা হয়েছে। বৈঠকে নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান ধীরজ শেঠ।
মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান ধীরজ শেঠ।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্কের একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় সেনাপ্রধানের নেপাল সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছিলেন। সেটি ছিল শাহের সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। সেখানে ভারতের সঙ্গে নেপালের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন শাহ।

এক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না করার যে নিয়ম শাহ নিজেই করেছিলেন, এই বৈঠকের ক্ষেত্রে তিনি সেই নিয়ম থেকে সরে এসেছেন। ফলে ভারতকে এই মুহূর্তে নেপাল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

জেনারেল ধীরজ শেঠ ১৭ থেকে ১৯ অগস্ট পর্যন্ত নেপাল সফরে রয়েছেন। নেপালি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে তাঁর এই সরকারি সফর। এই আভহে সোমবার এক অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল ভারতীয় সেনাপ্রধানকে নেপালি সেনার ‘মানদ জেনারেল’ পদে ভূষিত করেন। ভারত ও নেপালের মধ্যে এই বিশেষ সামরিক সম্মান দেওয়ার রীতি দীর্ঘদিনের।

১৯৫০ সাল থেকেই দুই দেশ একে অপরের সেনাপ্রধানকে ‘মানদ জেনারেল’ পদ দেওয়ার ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই এই মর্যাদা দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার নেপালি সেনার সদর দফতরেও যান জেনারেল ধীরজ শেঠ। সেখানে নেপালি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই সেনাপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের বক্তব্য, জেনারেল শেঠের সফর ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর বিখ্যাত পশুপতিনাথ মন্দিরেও যান জেনারেল ধীরজ শেঠ। সেখানে তিনি পুজো দেন। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত-নেপাল সামরিক যোগাযোগ যে সক্রিয় রয়েছে, জেনারেল ধীরজ শেঠের সফর এবং প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে তাঁর বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। আগামী সপ্তাহে তিনি সংসদের নিম্নকক্ষে উপস্থিত হয়ে সাংসদদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এর আগে গত ৩১ মে সংসদে শাহ দাবি করেছিলেন, নেপালও ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। এই নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হতে পারে বালেন্দ্রকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More