Indian Army Chief visits LoC: অশান্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, এরই মাঝে নিয়ন্ত্রণরেখা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

পিওকের অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সীমান্তপারের জঙ্গিগোষ্ঠী অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়াতে পারে। সেই কারণেই এলওসি-তে ভারতীয় সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক পাচার, জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে সম্ভাব্য উস্কানির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

Published on: Jul 10, 2026, 11:01:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian Army Chief visits LoC: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পিওকের একাধিক রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজকর্মী প্রকাশ্যে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এমনকি ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদনও করেছেন পিওকের এক নেতা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC)-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেনার যুদ্ধ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নর্দার্ন কমান্ড সফরে পৌঁছলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ। তাঁর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।

জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC)-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেনার যুদ্ধ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নর্দার্ন কমান্ড সফরে পৌঁছলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ।
জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC)-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেনার যুদ্ধ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নর্দার্ন কমান্ড সফরে পৌঁছলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেনারেল শেঠ নর্দার্ন কমান্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছ থেকে সীমান্তের পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। পাশাপাশি সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি খোঁজখবর নেন।

এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তে কর্মরত সেনাদের মনোবল বাড়ানো এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বোঝা। সেনাপ্রধান বিভিন্ন ফরওয়ার্ড পোস্ট পরিদর্শন করেন এবং কঠিন ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্ব পালনকারী জওয়ানদের প্রশংসা করেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তান-বিরোধী বিক্ষোভ ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ, খাদ্য, কর্মসংস্থান ও মৌলিক পরিষেবার অভাব নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সেখানকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি পিওকের এক নেতা প্রকাশ্যে ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে ভারত যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়, এমন আহ্বানও জানান তিনি। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিওকের অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সীমান্তপারের জঙ্গিগোষ্ঠী অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়াতে পারে। সেই কারণেই এলওসি-তে ভারতীয় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক পাচার, জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে সম্ভাব্য উস্কানির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

জেনারেল শেঠ আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, সীমান্তে যে কোনও ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারতীয় সেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই সফরে সেনাপ্রধান নর্দার্ন কমান্ডের বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশনাল সক্ষমতা, লজিস্টিক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন। সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা এবং সেনাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও তিনি নির্দেশ দেন।

প্রতিরক্ষা মহলের মতে, সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ধীরজ শেঠের এই প্রথম নর্দার্ন কমান্ড সফর শুধু নিয়মিত পর্যালোচনাই নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী যে এলওসি-তে প্রতিটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, এই সফর সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More