₹1577 Crore Pact For One Way Drone for Army: ১৫৭৭ কোটির চুক্তি, ভারতীয় সেনার হাতে আসছে ৮৪০ দূরপাল্লার ‘কামিকাজে’ ড্রোন
দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন কিনতে ১,৫৭৭ কোটি টাকার চুক্তি করেছে ভারতীয় সেনা। আগামী ১২ মাসের মধ্যে এই ড্রোনগুলি সেনার হাতে আসার কথা। এই চুক্তির আওতায় মোট ৮৪০টি দূরপাল্লার অ্যাটাক ড্রোন পাওয়া যাবে।
₹1577 Crore Pact For One Way Drone for Army: ভারতীয় সেনার শক্তি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করা হল। দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন কিনতে ১,৫৭৭ কোটি টাকার চুক্তি করেছে ভারতীয় সেনা। আগামী ১২ মাসের মধ্যে এই ড্রোনগুলি সেনার হাতে আসার কথা। এই চুক্তির আওতায় মোট ৮৪০টি দূরপাল্লার অ্যাটাক ড্রোন পাওয়া যাবে। এগুলি ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। শত্রুপক্ষের জ্যামিং এবং স্পুফিংয়ের মধ্যেও কাজ করার ক্ষমতা থাকবে ড্রোনগুলির।

ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনকে অনেক সময় লইটারিং অ্যামিউনিশনও বলা হয়। এগুলি সাধারণত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর কাছে গিয়ে আঘাত হানে। আঘাতের পর ড্রোনটি আর ফিরে আসে না। তুলনামূলকভাবে কম খরচে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে হামলা চালানো যায়। আধুনিক যুদ্ধে এই ধরনের ড্রোনের গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে।
এই চুক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি ফাস্ট-ট্র্যাক পদ্ধতির আওতায় ড্রোন কেনার প্রথম বড় অর্ডার। এই পদ্ধতিতে জরুরি প্রয়োজনের অস্ত্র দ্রুত কেনা যায়। চুক্তি হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য থাকে। ড্রোনগুলি তৈরি করবে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং নাইবে ডিফেন্স। দরপত্রের পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের পর টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস সবচেয়ে কম দরদাতা হিসেবে উঠে আসে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল নাইবে ডিফেন্স।
চুক্তি অনুযায়ী দুই সংস্থার মধ্যে অর্ডার ভাগ করে দেওয়া হবে। মোট অর্ডারের ৬৪ শতাংশ সরবরাহ করবে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস। বাকি ৩৬ শতাংশ সরবরাহ করবে নাইবে ডিফেন্স। এই ড্রোনগুলির বিশেষত্ব হল, এগুলি শত্রুর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধী। জ্যামিং এবং স্পুফিংয়ের মধ্যেও যাতে ড্রোনগুলি কাজ করতে পারে, সেই অনুযায়ী এগুলির নকশা করা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতাও এই ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে ড্রোনগুলির ব্যাপক পরীক্ষা করা হয়েছে। এমনকি উড্ডয়নের পর থেকেই জ্যামিংয়ের পরিবেশ তৈরি করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই ড্রোনগুলির অন্যতম প্রধান কাজ হবে সীমান্তের ওপারে থাকা শত্রুর আর্টিলারি বা গোলন্দাজ অবস্থান ধ্বংস করা। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের কামান, রকেট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানকে দূর থেকে লক্ষ্য করা যাবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও লইটারিং মিউনিশনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতেও এই ধরনের ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ভারতীয় সেনাও যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে চাইছে। শুধু ১০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ড্রোনেই থেমে থাকছে না সেনা। আরও কয়েকটি বড় ড্রোন চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে এমন ব্যবস্থাও রয়েছে, যেগুলি ১,৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রোনগুলি সেনার আক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকেও আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, নির্ভুল এবং তুলনামূলক কম খরচে হামলা চালানোর ক্ষমতা বাড়বে ভারতীয় সেনার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


