Suspicion on Army Officer wife: চিনের কাছে দেশের গোপন তথ্য ফাঁস! কাঠগড়ায় সেনা অফিসারের স্ত্রী, কীভাবে পড়েন ফাঁদে?

সেনা অফিসারের স্ত্রী, ২০২১ সালে বেঙ্গালুরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর, ২০২২ সালে জেনেভা থেকে ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা বিষয়ে মাস্টার অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ সম্পন্ন করেন।

Published on: Oct 19, 2026, 09:55:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দেশের গোপন তথ্য চিনের কাছে পাচারর করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই কাঠগড়ায় উঠেছেন ভারতীয় সেনার এক সিনিয়র অফিসারের স্ত্রী। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে, চিন সহ বিদেশে ভারতের গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ এনেছে। জানা যাচ্ছে, নিজের অজান্তেই চিনের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে দিয়েছেন এই সেনা অফিসারের স্ত্রী। গত ১৪ অক্টোবর তাঁকে জম্মু তাওয়াই রেলওয়ে স্টেশন থেকে আটক করে মিলিটারি স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলছে জেরা। কীভাবে এই ফাঁদে পড়েছেন ওই সেনা অফিসারের স্ত্রী?

চিনের কাছে দেশের গোপন তথ্য ফাঁস! সেনা অফিসারের স্ত্রী, কীভাবে পড়েন ফাঁদে? ( প্রতীকী ছবি, PTI Photo/Burhaan Kinu)(PTI10_17_2026_000229B) (PTI)
চিনের কাছে দেশের গোপন তথ্য ফাঁস! সেনা অফিসারের স্ত্রী, কীভাবে পড়েন ফাঁদে? ( প্রতীকী ছবি, PTI Photo/Burhaan Kinu)(PTI10_17_2026_000229B) (PTI)

২০২৩ সালে মেজর পদস্থ ওই সেনা অফিসারকে বিয়ে করেন অভিযুক্ত মহিলা। এর আগে সেনা অফিসারের স্ত্রী, ২০২১ সালে বেঙ্গালুরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর, ২০২২ সালে জেনেভা থেকে ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা বিষয়ে মাস্টার অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ সম্পন্ন করেন। তিনি নয়াদিল্লির সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ-এ একটি অনলাইন ইন্টার্নশিপও সম্পন্ন করেছিলেন এবং বেশ কয়েকটি গবেষণা ধর্মী পেপার-ও তিনি লেখেন।

সেনা অফিসারের ওই স্ত্রীকে জেরা করে জানা গিয়েছে, জাতিসংঘে ইন্টার্নশিপ করার সময় তিনি বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে একজন চিনা নাগরিকও ছিলেন, যার সঙ্গে তিনি কথিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। রিপোর্ট বলছে, তিনি যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাঁরা যে চিনের গুপ্তচর সংস্থার অঙ্গ, তা জানতেন না ওই মহিলা।মনে করা হচ্ছে যে, ২০২৪ সালে ওই মহিলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে একজন মালয়েশীয় নাগরিকের সাথেও যোগাযোগ রেখেছিলেন, যিনি একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চালাতেন এবং অভিযোগ রয়েছে যে তিনি চিনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়ে কাজ করতেন। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর তথ্য সম্পূর্ণরূপে ওপেন-সোর্স গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার সাথে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং অ্যানথ্রোপিক-এর ক্লড-এর সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য বলছে, শিক্ষাবিদ সেজে, চিনা গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে জড়িত ওই ব্যক্তিরা মহিলাকে দিয়ে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক ও অপারেশনাল বিভিন্ন দিক নিয়ে পেপার লেখান। প্রাথমিকভাবে তারা তাঁকে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে লিখতে দেয় এবং ধীরে ধীরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে লিখতে উৎসাহিত করে। মহিলার থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইলে জানা গিয়েছে, তাঁর ফোন থেকে উদ্ধার করা প্রাথমিক তথ্যে মানেকশ সেন্টারে ভারত-ইতালি প্রতিরক্ষা বৈঠক, ভারতীয় সেনাপ্রধানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর, ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি, অরুণাচল প্রদেশের কালাই-২ জলবিদ্যুৎ ও কমলা প্রকল্প, কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন, ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, আসামের প্রকল্প এবং ভারত-চিন সম্পর্কসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ের নথি পাওয়া। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ফ্রিল্যান্স গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি পরিকল্পিতভাবে গবেষণা চালিয়েছিলেন এবং সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করেছিলেন কি না।

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More