Indian captain arrested:‘আমার স্বামীকে বলির পাঁঠা...,' রুশ তেল-কাণ্ডে ব্রিটেনে গ্রেফতার ভারতীয় ক্যাপ্টেন,বিস্ফোরক স্ত্রী
Indian captain arrested: গত ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘স্মির্টোস’ নামের একটি জাহাজ। বাল্টিক সাগর হয়ে তার গন্তব্য ছিল মিশরের পোর্ট সইদ। সেখান থেকে গুজরাটের বন্দর। ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময়ে ব্রিটিশ কম্যান্ডোরা জাহাজটি আটক করেন।
Indian captain arrested: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পড়ে চরম সংকটে এক ভারতীয়র জীবন। ইংলিশ চ্যানেল (English Channel) পার হওয়ার সময়ে আটক জাহাজের ক্যাপ্টেন অজয় পন্থের (Ajay Pant) স্ত্রী ঋতু পন্থ দাবি করলেন, তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। রুশ তেলবাহী জাহাজটি রাশিয়া থেকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ভারতের দিকে রওনা দিয়েছিল। যেহেতু রুশ তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেকারণেই ব্রিটিশ জলসীমায় প্রবেশ করা মাত্র জাহাজটিকে আটক করা হয়। গত ১৪ জুন থেকে ব্রিটিশদের হেফাজতে রয়েছেন ক্যাপ্টেন অজয় পন্থ।

৩৮ বছর বয়সি ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পন্থের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ আইনে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে লন্ডনের আদালতে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আবহে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে অজয় পন্থের স্ত্রী ঋতু পন্থ (Ritu Pant) জানিয়েছেন, ‘আমার স্বামীকে কেবল বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন।' গত মাসদুয়েক ধরে এই ঘটনা নিয়ে শোরগোল চলছে। তবু তাঁর পরিবারের তরফে মুখ খোলা হয়নি। এই প্রথম এই বিষয়ে বিবৃতি দিতে দেখা অজয়ের পরিবারের কোনও সদস্যকে।
গত ১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলে নাটকীয় অভিযান চালায় ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনীর বিশেষ কম্যান্ডো বাহিনী। হেলিকপ্টার থেকে দড়ির সাহায্যে নেমে এসে ‘স্মির্টোস’ (Smyrtos) নামের ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি মাঝসমুদ্রে ঘিরে ফেলে ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন অজয় পন্থ। পশ্চিমি দেশগুলোর অভিযোগ, জাহাজটি রাশিয়ার 'শ্যাডো ফ্লিট' বা গোপন নৌবহরের অংশ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার তেলের ওপর চাপানো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপনে বাণিজ্য চালানোর জন্য মস্কো এই ধরনের অস্পষ্ট মালিকানাযুক্ত জাহাজ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘স্মির্টোস’ নামের একটি জাহাজ। বাল্টিক সাগর হয়ে তার গন্তব্য ছিল মিশরের পোর্ট সইদ। সেখান থেকে গুজরাটের বন্দর। ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময়ে ব্রিটিশ কম্যান্ডোরা জাহাজটি আটক করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এই অভিযানকে ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড় আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ঋতু পন্থ জানান, জামিন না মেলায় অজয় কারাগারে কঠিন সময় পার করছেন। গ্রেফতারির পর তাঁদের মধ্যে হওয়া ফোনে কথোপকথনের কথা স্মরণ করে তিনি বলছেন, 'ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। কেবলই কাঁদছিল। ওর সঙ্গে কী ঘটেছে, সেটাই বুঝতে পারছিল না… শুধু বলেছিল, আমি জেলে আছি, দয়া করে আমাকে এখান থেকে বের করো।' ব্রিটিশ কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অজয় ছিলেন জাহাজটির ‘মাস্টার।' জাহাজে থাকা প্রায় ৯৮ হাজার টন তেলের বিষয়ে তিনি জানতেন। তবে অজয়ের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, জাহাজের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে ক্যাপ্টেন ‘শুধু নির্দেশ মেনে চলছিলেন।’ তাঁর স্ত্রীও দাবি, অজয়ের দায়িত্ব ছিল নিরাপদে জাহাজ ও পণ্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।
ভারতের পদক্ষেপ
ভারতীয় কনস্যুলার আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই অজয়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। জাহাজের ২৫ জন ক্রু সদস্যের মধ্যে একমাত্র অজয়ের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। বাকি ২৪ জনের অধিকাংশই ইতিমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন। ‘স্মির্টোস’ এখনও ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে। কিন্তু ‘নির্দোষ’ অজয় কবে মুক্তি পাবেন? উত্তর এখনও অধরাই।আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার জন এই পেশায় যুক্ত। তাঁরাও উদ্বিগ্ন।
E-Paper

