Indian Defence Export Hiked: প্রতিরক্ষা রফতানিতে বড় সাফল্য ভারতের, এক দশকে ভারতীয় অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৫০০ শতাংশ

এক সময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য ভারতকে বিপুল পরিমাণে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হত। এখন সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। দেশের সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে।

Published on: Aug 15, 2026, 10:22:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারত এখন শুধু নিজের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মেটাচ্ছে না। বিশ্বের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে দেশ। এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বেড়ে হয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা। দেশীয় উৎপাদনের উপর জোর দেওয়ার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে দাবি তাঁর।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বেড়ে হয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা। (REUTERS)
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বেড়ে হয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা। (REUTERS)

এক সময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য ভারতকে বিপুল পরিমাণে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হত। এখন সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। দেশের সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। রাজনাথ সিংয়ের দাবি, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা রফতানিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ প্রায় এক দশকে প্রতিরক্ষা রফতানি বেড়েছে ৫,৫০০ শতাংশেরও বেশি। এই বৃদ্ধিকে ভারতের আত্মনির্ভরতার অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন দিশা এসেছে। বিদেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

শুধু রফতানি নয়। সেনাবাহিনীকে আধুনিক করার দিকেও বড় জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, গত এক বছরে Defence Acquisition Council বা DAC ৮.৭৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রতিরক্ষা প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল দেশের তিন বাহিনীকে আরও আধুনিক করা। উন্নত অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেখা গিয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হল দেশের রফতানি ক্ষমতা।

ভারত এখন বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে পাঠাচ্ছে। দেশীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের উপস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বড় সংস্থার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিও এই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা রফতানি বাড়ার ফলে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতার উন্নতিও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। একদিকে বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে ভারত।

রাজনাথ সিংয়ের পরিসংখ্যান সেই পরিবর্তনেরই ছবি তুলে ধরেছে। ২০১৩-১৪ সালের ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে ২০২৫-২৬ সালে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রফতানি। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোই এখন ভারতের অন্যতম বড় লক্ষ্য।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More