Thailand Travel Advisory: থাইল্যান্ড ভ্রমণে কড়াকড়ি! ভারতীয় পর্যটকদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি, সঙ্গে রাখতেই হবে...

Thailand Travel Advisory: ভারতীয় পর্যটকদের জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে থাইল্যান্ড সরকার। এর পরেই ব্যাংককে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভ্রমণকারীদের জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।

Published on: Jul 3, 2026, 23:19:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Thailand Travel Advisory: ভারতীয় পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় বিদেশ ভ্রমণের গন্তব্য থাইল্যান্ড। কম খরচ, সহজ যাতায়াত এবং দীর্ঘদিনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুবিধার জন্য দেশটি ভারতীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবার সেখানে যাওয়ার আগে ব্যাগ গোছানোর পাশাপাশি কাগজের দিকেও কড়া নজর দিতে হবে। সম্প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম ও সতর্কবার্তা জারি করেছে ব্যাংককের ভারতীয় দূতাবাস। নিয়মের সামান্য হেরফেরে সাধের ছুটি মাটি হতে পারে মুহূর্তেই।

থাইল্যান্ড ভ্রমণে কড়াকড়ি!
থাইল্যান্ড ভ্রমণে কড়াকড়ি!

ভারতীয় পর্যটকদের জন্য দীর্ঘদিন চালু থাকা ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে থাইল্যান্ড সরকার। এর পরেই ব্যাংককে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভ্রমণকারীদের জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এখন থেকে থাইল্যান্ড ভ্রমণে ভারতীয় নাগরিকদের যাত্রার দিন থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের কাছে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট এবং হোটেল বুকিংয়ের বৈধ নথিপত্র থাকতে হবে। ভ্রমণের খুঁটিনাটি পরিকল্পনা বা স্পষ্ট ‘আইটিনারি’ হাতের কাছে রাখা জরুরি। থাইল্যান্ড পৌঁছানোর ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে অনলাইনে ‘থাইল্যান্ড ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড’ (টিডিএসি) পূরণ করতে হবে। এই ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি কিইউআর কোড তৈরি হবে, যা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় দেখাতে হবে। তাই শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে সফরের আগে সমস্ত নথি এবং অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের ভ্রমণের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক ভিসার আবেদন করতে হবে। যাঁরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা ভিসা ছাড়ের সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের কাছে প্রতি যাত্রী পিছু নগদ অন্তত ২০ হাজার থাই বাট (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৭,৪৬৭ টাকা) থাকা আবশ্যক। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাওয়ার আগে সমস্ত নথিপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখতে হবে। দল বেঁধে ভ্রমণ করলেও দলের প্রতিটি সদস্যকে নিজস্ব নথিপত্র আলাদাভাবে সঙ্গে রাখতে হবে। এছাড়াও, কাজের সন্ধানে বা চাকরির প্রস্তাব নিয়ে থাইল্যান্ড গেলে কোনওভাবেই ভিসা অন অ্যারাইভাল বা ভিসা ওয়েভারের সুবিধা নেওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে আগে থেকেই কর্মসংস্থানের সঠিক ভিসা নিয়ে যেতে হবে। থাইল্যান্ড হয়ে অন্য দেশে ট্রানজিট থাকলে, চূড়ান্ত গন্তব্যের সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজ এবং ভিসা সঙ্গে রাখা জরুরি। সামান্য অসতর্কতায় যেন স্বপ্নের ছুটি ফিকে না হয়, সেই কারণেই এই আগাম নির্দেশিকা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পর্যটন শিল্পকে উৎসাহ দিতে ভারত-সহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ চালু করেছিল থাইল্যান্ড। সেই সিদ্ধান্তে ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল এবং গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় দেশটিতে ভ্রমণ করেছেন। তবে সম্প্রতি সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে থাই মন্ত্রিসভা ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতকে ভিসামুক্ত দেশের তালিকা থেকে সরিয়ে ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি আজারবাইজান, বেলারুশ এবং সার্বিয়াকেও একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। থাই সরকারের দাবি, পর্যটনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।