India to Pakistani Gen Z: পাকিস্তানের জেন জি-কে কড়া বার্তা ভারতের, সীমান্ত-পার সন্ত্রাস বন্ধের আহ্বান
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'আমরা সবাই জানি, পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে আসছে। ভারতের মানুষ, যার মধ্যে জেন জি-ও রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে পাকিস্তান-সমর্থিত এই সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হওয়া উচিত।'
India to Pakistani Gen Z: পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’-এর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল ভারত। ভারতের জেন জি-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে পাকিস্তানি তরুণরা। আর এরই প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাস ইস্যুতে কড়া বার্তা দিল বিদেশ মন্ত্রক। দিল্লির স্পষ্ট বার্তা - ‘সীমান্ত-পার সন্ত্রাস বন্ধ হোক’। সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের মদতের প্রসঙ্গ তুলে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভারতের মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, চায় পাকিস্তান রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ অবিলম্বে বন্ধ করুক। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, পাকিস্তানের তরুণরাও এই বার্তার গুরুত্ব অনুধাবন করবে এবং সন্ত্রাসমুক্ত ভবিষ্যতের পক্ষে অবস্থান নেবে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের জেন জি-কে উদ্দেশ করে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, 'আমরা সবাই জানি, পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে আসছে। ভারতের মানুষ, যার মধ্যে জেন জি-ও রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে পাকিস্তান-সমর্থিত এই সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা আশা করি, পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মও এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।'
ভারতের বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হল সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ। নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি বহু বছর ধরে ভারতে হামলা চালিয়ে আসছে। এই কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পথে বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ভারত বরাবরই বলে এসেছে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে সন্ত্রাসবাদকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, পাকিস্তানের তরুণদের উদ্দেশে ভারতের এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সরকারি স্তরে সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলেও, তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই সরাসরি পাকিস্তানের জেন জি-কে উদ্দেশ করে এই মন্তব্য করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে ভারত একদিকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের নতুন প্রজন্মকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। ভারতের ধারণা, ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে হলে সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যাখ্যান করাই একমাত্র পথ।
ভারত বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও নয়াদিল্লি সন্ত্রাসবাদকে মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। সেই অবস্থান থেকেই বিদেশ মন্ত্রকের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা, সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে। তাই পাকিস্তানের তরুণদের প্রতিও ভারতের আহ্বান—রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ বন্ধের দাবিকে গুরুত্ব দিন এবং এমন এক ভবিষ্যতের পক্ষে দাঁড়ান, যেখানে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক সংঘাত নয়, শান্তি ও উন্নয়নের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


