সীমান্ত উত্তেজনার মাঝে সম্পর্কে বরফ গলানোর চেষ্টা ভারতের, বাংলাদেশের খলিলুরের সঙ্গে দেখা দীনেশের

বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) এবং বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন।

Published on: Jul 30, 2026, 09:29:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian High Commissioner met Bangladesh Foreign Minister: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ প্রোগ্রাম’-এ আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে এই আমন্ত্রণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা সামনে এসেছে।

সীমান্ত উত্তেজনার মাঝে সম্পর্কে বরফ গলানোর চেষ্টা ভারতের, বাংলাদেশের খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা দীনেশ ত্রিবেদীর
সীমান্ত উত্তেজনার মাঝে সম্পর্কে বরফ গলানোর চেষ্টা ভারতের, বাংলাদেশের খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা দীনেশ ত্রিবেদীর

এই আবহেই বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) এবং বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। দুটি বৈঠকই সৌজন্যমূলক হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, 'আমি সব কিছুকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চাই।' তাঁর এই মন্তব্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাংলাদেশে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর সাধারণত ভারতেই হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই প্রথা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে চিন সফরে গিয়েছেন। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে তাঁকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, এখনও পর্যন্ত তিনি ভারতে আসেননি। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, 'আমাদের দিক থেকে এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা প্রস্তুত। আমরা খুবই আশাবাদী যে, অদূর ভবিষ্যতে তাঁর ভারত সফর হবে।' তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভারত সরকার এখনও ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আগ্রহী।

বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি এবং গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণের বিষয়ও উঠে আসে। যদিও এই দুই ইস্যুতে কোনও নির্দিষ্ট অগ্রগতির কথা জানানো হয়নি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, 'আজকের বৈঠক মূলত সৌজন্যমূলক ছিল। বৈঠক অত্যন্ত উষ্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, এমন কোনও বিষয় নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।' তিনি আরও বলেন, 'শেষ পর্যন্ত এটি দুই দেশের মানুষের বিষয়। ভারত ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং দুই দেশের নাগরিকদের স্বার্থে যা সবচেয়ে মঙ্গলজনক, সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, তিস্তা চুক্তি এবং জলবণ্টনের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আগ্রহী। সেই কারণেই ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য উপস্থিতি শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যতের দিক থেকেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন নজর, সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক আদৌ হয় কি না এবং সেই বৈঠক থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন কোনও দিশা সামনে আসে কি না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More