Bangladesh Durga Puja: ৩৪টি হামলার অভিযোগ পুজোর আগে, বাংলাদেশ কেমন হচ্ছে দুর্গোৎসব? কী বললেন দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সহাবস্থান জরুরি। তবে নিরাপত্তার আশ্বাসের মধ্যেই পুজোর আগে বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

Published on: Oct 19, 2026, 11:06:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে দুর্গাপুজো ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিলেন ভারতীয় কূটনীতিকেরা। পুজো শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদে। অন্য দিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সহাবস্থান জরুরি। তবে নিরাপত্তার আশ্বাসের মধ্যেই পুজোর আগে বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দাবি, এ বছর পুজোর আগে এমন ৩৪টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সহাবস্থান জরুরি
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সহাবস্থান জরুরি

‘সাম্প্রদায়িক ঘটনা রুখতে চেষ্টা করছে সরকার’

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শনে যান ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদে। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুজো শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ঘোষণাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সবাইকে শারদীয় দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানান তিনি।

ভারত ও বাংলাদেশের দুর্গাপুজোর মধ্যে গভীর মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পবন। তাঁর কথায়, দুই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জীবনযাত্রার আদানপ্রদান এই অভিন্ন বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ঢাকার বনানীর একটি পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সময় যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়, তা সারা বছর বজায় রাখা প্রয়োজন। সম্প্রীতি গড়তে হলে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুজোর আগে ৩৪টি হামলার অভিযোগ

তবে কূটনৈতিক মহলের সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা জানিয়েছেন, এ বছর দুর্গাপুজোর আগে দেশজুড়ে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা এবং এ ধরনের হিংসার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে। সংগঠনটির দাবি, ১১টি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্তেরা।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি দুর্গামন্দিরে নির্মাণাধীন প্রতিমার মহিষ ও ময়ূরের অংশ ভাঙচুর করা হয়। ১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি দুর্গামন্দিরে চারটি প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ৯ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতেও নির্মাণাধীন প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ তদন্তের কথা জানিয়েছে।

এর আগেও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে হামলার চেষ্টা, প্রবেশদ্বার ভাঙচুর এবং হিন্দুদের বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সিলেটের হাওলদার পাড়ায় এমন হামলার চেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে পুজোর সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নতুন নয়।

৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে বাড়তি নজরদারি

বাংলাদেশের পুলিশ জানিয়েছে, পুজোকে নির্বিঘ্ন রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন এবং পুজো পরবর্তী সময়েও নজরদারি চলবে। মণ্ডপে সিসিটিভি, পর্যাপ্ত আলো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়েছে।

ভারতের কূটনীতিকদের বক্তব্যে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন ও সম্প্রীতির গুরুত্ব উঠে এসেছে। কিন্তু প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের শাস্তি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। উৎসবের পাঁচ দিন নয়, সারা বছরই নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি তুলেছে সেখানকার হিন্দু সংগঠনগুলি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More