Indian Navy in Pacific Ocean: প্রশান্ত মহাসাগরে ভারতের P-8I বিমান, সাবমেরিন-বিরোধী নৌ-মহড়ায় বড় ভূমিকায় ভারতীয় নৌসেনা

প্রথমবারের মতো এই মহড়ায় থিয়েটার-স্তরের সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ (Anti-Submarine Warfare বা ASW) পরিচালনার ক্ষেত্রে ডেপুটি কমান্ডার টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে ভারত। এই দায়িত্ব ভারতের সামরিক দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

Published on: Jul 10, 2026, 09:52:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian Navy in Pacific Ocean: বিশ্বের বৃহত্তম বহুজাতিক নৌ-মহড়া রিম অব দ্য প্যাসিফিক (RIMPAC) ২০২৬-এ এবার নতুন ইতিহাস গড়ল ভারতীয় নৌসেনা। প্রথমবারের মতো এই মহড়ায় থিয়েটার-স্তরের সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ (Anti-Submarine Warfare বা ASW) পরিচালনার ক্ষেত্রে ডেপুটি কমান্ডার টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে ভারত। এই দায়িত্ব ভারতের সামরিক দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় নৌসেনা জানিয়েছে, মহড়ার সমুদ্রপর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের P-8I লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনিসেন্স (LRMR) বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। (@indiannavy X)
ভারতীয় নৌসেনা জানিয়েছে, মহড়ার সমুদ্রপর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের P-8I লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনিসেন্স (LRMR) বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। (@indiannavy X)

ভারতীয় নৌসেনা জানিয়েছে, মহড়ার সমুদ্রপর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের P-8I লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনিসেন্স (LRMR) বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মিশন পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, অপারেশনাল ব্রিফিং এবং পেশাদার অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় দল।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম RIMPAC-এ ভারতকে থিয়েটার-স্তরের অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ারের ডেপুটি কমান্ডার টাস্ক ফোর্সের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে এই দায়িত্ব সেই দেশগুলিকেই দেওয়া হয়, যাদের নৌবাহিনীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অপারেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ক্ষমতার উপর আয়োজকদের পূর্ণ আস্থা থাকে। ফলে এই দায়িত্ব ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য।

ভারতীয় নৌসেনার অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র P-8I বিমান। অত্যাধুনিক সেন্সর, রাডার এবং দীর্ঘ দূরত্বে নজরদারির ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিমান সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিন শনাক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর। শুধু নজরদারি নয়, প্রয়োজনে সাবমেরিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে এই বিমানের। ভারত মহাসাগরে দীর্ঘদিন ধরেই এই বিমান ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করে আসছে।

RIMPAC-এ ভারতের এই ভূমিকা এমন সময়ে সামনে এল, যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক প্রতিযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-সক্রিয়তার কারণে এই অঞ্চলে সমুদ্র নিরাপত্তার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান-সহ একাধিক দেশ একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার পক্ষে জোর দিচ্ছে।

ভারতীয় নৌসেনা জানিয়েছে, এই মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ অভিযান পরিচালনার দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনও সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, RIMPAC বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া। ১৯৭১ সালে শুরু হওয়া এই মহড়ার এবার ৩০তম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এবারের মহড়ায় ৩০টি দেশ, ৩০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, ৫টি সাবমেরিন, ১৫টি দেশের স্থলবাহিনী, ২০০-র বেশি সামরিক বিমান এবং প্রায় ৩০ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এবং তার আশপাশের সমুদ্র এলাকায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, RIMPAC 2026-এ ভারতের নেতৃত্বের ভূমিকা শুধু নৌসেনার সক্ষমতার স্বীকৃতিই নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত গুরুত্বও আরও বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতের ভূমিকা যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, এই মহড়া সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More