Indian Navy: ইরান যুদ্ধ থামার নাম নেই, হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরও রণতরী মোতায়েন করছে ভারতীয় নৌসেনা

২০১৯ সাল থেকেই ওমান উপসাগর থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে এসকর্ট করে দেশের বন্দরে নিয়ে আসে ভারতীয় নৌবাহিনী। আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও ভারতীয় জাহাজকে ইরান যেতে দিতে পারে। তাই ওমান উপসাগরে প্রস্তুত থাকছে ভারতীয় নৌসেনা। এই আবহে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনর রণতরীর সংখ্যা বেড়ে ৬ থেকে ৭ হতে পারে।

Published on: Mar 19, 2026, 08:21:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই ওমান উপসাগর থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে এসকর্ট করে দেশের বন্দরে নিয়ে আসে ভারতীয় নৌবাহিনী। আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও ভারতীয় জাহাজকে ইরান যেতে দিতে পারে। তাই ওমান উপসাগরে প্রস্তুত থাকছে ভারতীয় নৌসেনা। এই আবহে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনর রণতরীর সংখ্যা বেড়ে ৬ থেকে ৭ হতে পারে।

হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনর রণতরীর সংখ্যা বেড়ে ৬ থেকে ৭ হতে পারে। (Defence PRO)
হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনর রণতরীর সংখ্যা বেড়ে ৬ থেকে ৭ হতে পারে। (Defence PRO)

এদিকে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপরে আরও ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে সৌদি, কাতারে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। এর জেরে এই সব দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মাঝে ভারত কূটনীতির মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশে নিয়ে আসার চেষ্টা জারি রেখেছে। এবং ইরানও ভারতের ক্ষেত্রে ইতিবাচক রয়েছে।

এর আগে গত ১৬ মার্চ ভারতে এসে পৌঁছেছিল শিবালিক নামক এলপিজি ট্যাঙ্কার। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে সেই জাহাজটি এসে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে এটি ভারতের উপকূলে এসে পৌঁছেছে। এর একদিন পরই 'নন্দাদেবী' নামক আরও একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে এসে পৌঁছায়। তারপর ১৮ মার্চ মুম্বই এসে পৌঁছায় জগ লড়কি নামক একটি ভারতীয় জাহাজ। এই সবকটি জাহাজকে এসকর্ট করে নিয়ে এসেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। শিবালিক এবং নন্দাদেবী নামক দুটি ট্যাঙ্কারই ভাড়া করেছিল ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন। এবং এই দুটি জাহাজই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এই আবহে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের নিশ্চয় কোনও চুক্তি হয়েছে এবং বিনিময়ে ইরান 'কিছু পাবে'। যদিও মার্কিন কর্মকর্তার এহেন দাবিকে উড়িয়ে দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজে।

হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More