১ মিনিটে ১.৫ লক্ষ টিকিট! বদলাচ্ছে ৪০ বছরের পুরনো ব্যবস্থা, ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ে বড় পরিবর্তন
Indian Railways: বর্তমান যে সিস্টেমে রেলের টিকিট বুকিং হয়, সেটি প্রায় চার দশক পুরোনো। ১৯৮৬ সালে 'দ্য সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম' (CRIS) এটি লঞ্চ করেছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে চালু হয় ইন্টারনেট বুকিং। আর নেক্সট জেনারেশন ই টিকিটিং চালু হয় ২০১৪ সালে।
Indian Railways: ট্রেনের টিকিট বুকিং পরিষেবাকে আরও উন্নত ও দ্রুত করতে এক বিরাট পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। রেলওয়ের প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম (PRS)-এ আসছে এক নতুন এবং আধুনিক আপডেট। এই আপডেটের ফলে রেলের রিজার্ভেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এখন থেকে মিনিটে ১.৫ লক্ষ টিকিট বুকিং করা সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, মিনিটে ৪০ লক্ষ প্যাসেঞ্জারের ইনকুয়েরি সামলে দেওয়া যাবে। বর্তমান সিস্টেমে যেখানে মিনিটে মাত্র ৩২,০০০ টিকিট বুক করা যায় এবং ৪ লক্ষ ইনকোয়ারি সামলানো সম্ভব হয়, সেখানে এই নতুন পরিবর্তন রেল পরিষেবায় এক বিশাল বিপ্লব আনতে চলেছে।

কেন এই আধুনিকীকরণ?
জানা গিয়েছে, বর্তমান যে সিস্টেমে রেলের টিকিট বুকিং হয়, সেটি প্রায় চার দশক পুরোনো। ১৯৮৬ সালে 'দ্য সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম' (CRIS) এটি লঞ্চ করেছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে চালু হয় ইন্টারনেট বুকিং। আর নেক্সট জেনারেশন ই টিকিটিং চালু হয় ২০১৪ সালে। বর্তমানে ২০১৪-এর সিস্টেমেই মূলত বুকিং হয়। ২০২৫-এ রেল ওয়ান (RailOne) অ্যাপ চালু হয়। সরকার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত বুকিং ও অনুসন্ধান সক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী প্রজন্মের পিআরএস তৈরির ঘোষণা করে। ২০২৬-এর আগস্টে ধাপে ধাপে ট্রেনগুলিকে উন্নত পিআরএস-এ স্থানান্তর শুরু হয়, যা রেল সংরক্ষণ ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই উদ্যোগগুলি রেল সংরক্ষণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে এবং পরিচালনগত দক্ষতা আরও উন্নত করেছে।
এতদিন ধরে মূলত ২০১৪ সালের সিস্টেমেই বুকিং হয়ে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমূল বদলে গেছে টিকিটের চাহিদা। মানুষ এখন কাউন্টারে লাইন দেওয়ার চেয়ে অনলাইনেই ভরসা রাখছেন বেশি। ভারতীয় রেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে মোট ৬৫.৮ কোটি রিজার্ভ টিকিট বুক করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৭.৯০ কোটি টিকিটই কাটা হয়েছে অনলাইন মাধ্যমে-অর্থাৎ প্রায় ৮৯ শতাংশ বুকিং হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এর ফলেই ক্রমাগত বুকিং সিস্টেমের উপর চাপ বাড়ছিল। রেলযাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত প্রসারেরই প্রতিফলন এই পরিসংখ্যানে। বর্তমানে পিআরএস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন রেল টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম। সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (ক্রিস) এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সংস্থাটিই এই প্ল্যাটফর্মের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। প্রতিদিন ২০.৫ লক্ষেরও বেশি যাত্রী বিভিন্ন বুকিং মাধ্যমের মাধ্যমে এই পরিষেবা ব্যবহার করেন। পিআরএস-এর মোট লেনদেনের প্রায় ৭৩ শতাংশ নগদবিহীন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।
যাত্রীদের জন্য আপডেট
পিআরএস এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ জনমুখী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় রেলের এমন একটি সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা আরও বেশি সংখ্যক লেনদেন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং সুরক্ষিত পরিষেবাও নিশ্চিত করবে। সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ভারতীয় রেল একাধিক যাত্রীকেন্দ্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অগ্রিম সংরক্ষণের সময়সীমা ১২০ দিন থেকে কমিয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। যাত্রীদের বুকিংয়ের বর্তমান প্রবণতার সঙ্গে এই পরিবর্তন সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আধার-যাচাইকৃত তৎকাল বুকিং ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা এবং সমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরে ওটিপি-ভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় বট এবং অনুমোদনহীন এজেন্টদের অপব্যবহার রোধ করাই এর উদ্দেশ্য।
আইআরসিটিসি ওয়েবসাইটে পরিবর্তন
যাত্রীদের সুবিধার জন্য আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইটও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে পরীক্ষামূলক সংস্করণ শুরু হয়েছে। নতুন সংস্করণে সহজ ইন্টারফেস রয়েছে। বুকিং-এর ধাপ কমানো হয়েছে। সব শ্রেণীর আসনের প্রাপ্যতাও একসঙ্গে দেখা যাবে। এই নতুন পোর্টাল আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের পিআরএস-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে, টিকিট বুকিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও সহজ হবে। রেল টিকিট বুকিং-এর পাশাপাশি, আইআরসিটিসি-র পর্যটন প্ল্যাটফর্মে হোটেল বুকিং, রিটায়ারিং রুম, লাউঞ্জ বুকিং, ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট এবং বাস টিকিট বুকিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
ভবিষ্যতের উপযোগী সংরক্ষণ ব্যবস্থা
গত প্রায় চার দশকে ভারতীয় রেলের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম প্রতীক প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম। আজ দেশের কয়েক কোটি যাত্রী এই সংরক্ষণ ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখেন। নতুন প্রজন্মের পিআরএস সেই শক্তিশালী ভিত্তিকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। যাত্রীরা আরও দ্রুত, আরও নির্ভরযোগ্য এবং আরও সহজ পরিষেবা পাবেন। যাত্রীদের চাহিদা সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় রেল ভবিষ্যতের উপযোগী সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
E-Paper

