Indian Sailor: ভেনেজুয়েলা থেকে ফিরল ভারতীয় নাবিকের দেহ, নেই হৃদপিণ্ড-ফুসফুস-সহ একাধিক অঙ্গ! রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

চিকিৎসকদের দাবি, দেহে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গই অনুপস্থিত ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে ফেডারেশন অব সিফেয়ারার্স ইউনিয়নস অব ইন্ডিয়া। একই দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবারও।

Published on: Jul 1, 2026, 12:59:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভেনেজুয়েলায় কর্মরত এক ভারতীয় নাবিকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি রাকেশ চৌহানের দেহ দেশে ফেরার পর ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। চিকিৎসকদের দাবি, দেহে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গই অনুপস্থিত ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে ফেডারেশন অব সিফেয়ারার্স ইউনিয়নস অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই)। একই দাবি জানিয়েছে মৃত নাবিকের পরিবারও।

চিকিৎসকদের দাবি, দেহে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গই অনুপস্থিত ছিল।
চিকিৎসকদের দাবি, দেহে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, পাকস্থলী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গই অনুপস্থিত ছিল।

জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্চেন্ট নেভির একটি জাহাজে কর্মরত অবস্থায় ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন রাকেশ চৌহান। মে মাসে তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। প্রথমে দাবি করা হয়, জাহাজে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরদিন জানানো হয়, তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থা পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেয়। প্রথমে বলা হয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই দেহ দেশে পাঠানো হবে। কিন্তু প্রায় এক মাস পরে, ৪ জুন রাকেশের মরদেহ পৌঁছয় উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ায়।

দেহ দেশে ফেরার পর প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্ত করতে অস্বীকার করেন। তাঁদের মতে, মৃতদেহে আগেই ময়নাতদন্তের চিহ্ন ছিল এবং প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া পুনরায় পরীক্ষা সম্ভব নয়। পরে জেলা শাসকের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই রিপোর্টেই প্রকাশ পায়, মৃতদেহে প্রায় কোনও অভ্যন্তরীণ অঙ্গই নেই। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘাড় থেকে তলপেট পর্যন্ত ৬০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ সেলাই এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত মাথায় ২০ সেন্টিমিটার সেলাইয়ের দাগ ছিল। দীর্ঘদিন হিমঘরে সংরক্ষিত থাকায় দেহের রংও পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অঙ্গ না থাকায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করাও সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পরিবার। মৃতের বাবা রাম দেব চৌহানের অভিযোগ, তাঁদের পুরো বিষয়টি অন্ধকারে রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা কোনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানায়নি। তাই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এফএসইউআই-ও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। সংগঠনের অভিযোগ, বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তারা ভেনেজুয়েলা সরকারের জবাবদিহি, ভারতীয় দূতাবাসের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ, সম্পূর্ণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ এবং মৃতের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়নাতদন্তের সময় পরীক্ষার উদ্দেশ্যে কিছু অঙ্গ অপসারণ করা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট, সংরক্ষিত অঙ্গের তথ্য এবং মৃত্যুর কারণ স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনায় সেই নথিপত্রের অনুপস্থিতিই রহস্য আরও গভীর করেছে। ফলে রাকেশ চৌহানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাঁর দেহ থেকে একাধিক অঙ্গ কেন অনুপস্থিত, তা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশই জোরালো হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More