Indian scientists space discovery: ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হাত ধরে খুলল মহাকাশ জয়ের নতুন দুয়ার! চাঁদে অভাবনীয় কিছু আবিষ্কার

ISRO moon south pole research: চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কী পাওয়া গেল? কী খুঁজে পেলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। 

Published on: Apr 16, 2026, 05:46:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Water ice on Moon: চাঁদের দক্ষিণ মেরু নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। ভারতের চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সাফল্যের পর এবার আরও এক বড় অর্জনের খবর দিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। টিভি ব্রিকস (TV BRICS) এবং ইসরো (ISRO)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর পৃষ্ঠের ঠিক নিচেই বিশাল বরফ ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিচে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেওয়া হলো।

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হাত ধরে খুলল মহাকাশ জয়ের নতুন দুয়ার!
ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হাত ধরে খুলল মহাকাশ জয়ের নতুন দুয়ার!

মহাকাশ গবেষণায় ভারত এখন এগিয়ে চলেছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথম দেশ হিসেবে মহাকাশযান অবতরণ করানোর পর, এবার সেখানকার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা অমূল্য সম্পদের সন্ধান দিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর উপরিভাগের কয়েক মিটার নিচেই রয়েছে বিশাল পরিমাণে বরফ (Subsurface Ice)। এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযান এবং সেখানে মানুষের বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরোর গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসরোর স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (SAC) এবং আইআইটি কানপুরের গবেষকরা যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা চাঁদের মেরু অঞ্চলের রাডার ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, চাঁদের পিঠের নিচে যে পরিমাণ বরফ রয়েছে, তা উপরিভাগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বরফ কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে সেখানে জমা হয়ে আছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ‘পার্মানেন্টলি শ্যাডোড রিজিয়ন’ বা চির অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলোতে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে সেখানকার তাপমাত্রা থাকে অত্যন্ত কম, যা বরফ সংরক্ষণের জন্য আদর্শ।

কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?

চাঁদে বরফের অস্তিত্ব থাকা মানেই হলো সেখানে জলের উৎস থাকা। ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণায় এর গুরুত্ব অপরিসীম:

১. পানীয় জল ও অক্সিজেন: এই বরফকে প্রক্রিয়াজাত করে ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের জন্য পানীয় জল এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

২. রকেট ফুয়েল: জলকে বিশ্লিষ্ট করে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়, যা রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে চাঁদকে একটি ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গল বা তার চেয়েও দূরের গ্রহে পাড়ি দেওয়া সহজ হবে।

৩. দীর্ঘমেয়াদী বসতি: চাঁদে যদি জলের উৎস নিশ্চিত করা যায়, তবে সেখানে স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার বা মানুষের কলোনি তৈরি করা আর অসম্ভব থাকবে না।

গবেষণার পদ্ধতি

ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আমেরিকান স্পেস এজেন্সি নাসার (NASA) এলআরও (LRO) মিশনের রাডার ডেটা এবং ইসরোর নিজস্ব চন্দ্রযান মিশনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই মানচিত্র তৈরি করেছেন। তারা দেখেছেন যে, উত্তর মেরুর তুলনায় দক্ষিণ মেরুতে বরফ জমার পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে যেখানে উল্কাপাতের ফলে গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে, তার নিচেই বরফের আস্তরণ সবথেকে ঘন।

ভারতের এই নতুন আবিষ্কার বিশ্ববাসীকে এটা স্পষ্ট করে দিল যে, চাঁদ কেবল একটি রুক্ষ পাথুরে উপগ্রহ নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের সম্পদের ভাণ্ডার। লুনার পোলার এক্সপ্লোরেশন মিশন (LUPEX)-এর মতো আসন্ন অভিযানগুলোতে এই তথ্যগুলো অত্যন্ত সহায়ক হবে। ভারতের এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে যে, মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের সক্ষমতা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More