৪৮ ঘণ্টা আগে পরিবারে বড় বিপর্যয়! শোক সামলে বিশ্বকাপ জেতাতে বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতীয় তারকার
মাঠে নেমে অবশ্য এই অবসাদের ছিটেফোঁটা বুঝতে দেননি তিনি। ম্যাচের সময় পুরো মনোযোগ ছিল একমাত্র খেলাতেই।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ বিশ্বকাপের মেগাফাইনালের জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এল ভয়ঙ্কর খবর। বিশ্বকাপ ফাইনালের একদিন আগেই গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন তুতো দিদি-জামাইবাবু। সেই যন্ত্রণা বুকে নিয়েই আহমেদাবাদে নেমেছিলেন ঈশান কিষান। আর আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে নেমেই ২৫ বলে ৫৪ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেললেন। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারীদিবসে বিশ্বকাপ জিতে প্রয়াত দিদিকেই ট্রফি উৎসর্গ করলেন ঈশান।

টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠিক বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে শুক্রবার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ঈশানের এক খুড়তুতো ভাই ও জামাইবাবুর। ফাইনালের ঠিক দু’দিন আগে এই আকস্মিক বিপর্যয়ে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। দুর্ঘটনার পর পরিবারের পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঈশানের বাবা প্রণব পাণ্ডে। সেই কারণে তিনি ফাইনাল দেখতে আহমেদাবাদে যেতে পারেননি। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঈশান নিজেও পরিবারের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামনে বিশ্বকাপ ফাইনাল থাকায় শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফাইনালের আগে ঈশানের বাবা জানান, 'অনর্থ হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই এখন সমস্যার মধ্যে আছি। সবাই শকে রয়েছি।' প্রণব পাণ্ডে আরও বলেন, 'ঈশান আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের কারণে ও আসতে পারেনি। ও খুবই বিচলিত।'
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন ধাক্কা সামলানো সত্যিই খুব কঠিন। যে কারণে ফাইলানের আগে দলের অনুশীলনেও ঈশানের আচরণে মানসিক চাপের ছাপ দেখা যায়। সাধারণত প্রাণবন্ত, চনমনে স্বভাবের হলেও ফাইনালের আগে ঈশান অনেকটাই চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। কারও সঙ্গেই সেভাবে কথা বলেননি। ব্যাটিং সেশনও নাকি অন্যান্য দিনের তুলনায় ছোট ছিল। সতীর্থদের অনেকে এগিয়ে এসে তাঁর পাশে দাঁড়ান, সান্ত্বনা দেন, ভরসা জোগান। মাঠে নেমে অবশ্য এই অবসাদের ছিটেফোঁটা বুঝতে দেননি ঈশান। ম্যাচের সময় পুরো মনোযোগ ছিল একমাত্র খেলাতেই। স্বজন বিয়োগের আঘাত সামলেও বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন মারকুটে ব্যাটিং করা সম্ভব, ঈশান কিষানকে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না।বিশ্বকাপের ফাইনালে ঈশান নেমেছিলেন তিনে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালান। মাত্র ২৫ বলে করেন ৫৪ রান। অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ব্যাট তুলে আকাশের দিকে তাকান ঈশান। তখন বোঝা না গেলেও অনেকেই এখন মনে করছেন, সেটি ছিল প্রয়াত আত্মীয়দের উদ্দেশে তাঁর নীরব, বিনম্র শ্রদ্ধা। টি-২০ বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দুরন্ত ছিলেন এই তরুণ খেলোয়াড়। আউটফিল্ডে লুফে নেন দুটি কঠিন ক্যাচ। সাজঘরে ফেরান বিপজ্জনক রাচিন রবীন্দ্র এবং টিম সেইফার্টকে।
শুধু ফাইনাল নয়, পুরো বিশ্বকাপেই ঈশানের পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে। নয় ইনিংসে তিনি মোট ৩১৭ করেন। বিশ্বকাপে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে নাম তুলেছেন ঈশান কিষান।
E-Paper

