ট্রেকিংয়ে গিয়ে চরম পরিণতি! মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষকের রহস্যমৃত্যু

Indian-origin PhD student dead: বিক্রম মুবায়ির পরিবার জানিয়েছে, তিনি হংকংয়ে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। ট্রেকিংয়ের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ ছিল এবং তিনি একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও হাইকার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

Published on: Aug 7, 2026, 11:36:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian-origin PhD student dead: মার্কিন মুলুকে ফের মৃত্যু ভারতীয় বংশোদ্ভূতের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একক ট্রেকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষকের দেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of California) সান্তা বারবারা (ইউসিএসবি)-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি ছাত্র বিক্রম মুবায়ি (Vikram Mubayi) ১ আগস্ট বিগ পাইন লেকস এলাকায় ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু’দিনের তল্লাশির পর ৩ আগস্ট ইনিও ন্যাশনাল ফরেস্টের বিগ পাইন লেকস থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষকের রহস্যমৃত্যু (সৌজন্যে টুইটার)
মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষকের রহস্যমৃত্যু (সৌজন্যে টুইটার)

জানা গেছে, ১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ বিক্রম মুবায়ি শেষবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই সময় নিজের জিপিএস লোকেশনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন তিনি। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় তাঁর কোনও খবর না পাওয়ায় পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিষয়টি জানানো হলে ইনয়ো কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (Inyo County Search and Rescue)-এর নেতৃত্বে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ তল্লাশির এক পর্যায়ে উদ্ধারকারী দল বিগ পাইন লেকস এলাকা থেকে বিক্রমের দেহ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনও ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার ইঙ্গিত মেলেনি।

কে এই বিক্রম মুবায়ি?

বিক্রম মুবায়ির পরিবার জানিয়েছে, তিনি হংকংয়ে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। ট্রেকিংয়ের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ ছিল এবং তিনি একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও হাইকার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই কারণেই প্রথমদিকে পরিবার ভেবেছিল, হয়তো কোনও দুর্গম এলাকায় আটকে পড়েছেন। বিক্রম ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইন থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি উসিএসবি-তে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণায় যোগ দেন।

নিখোঁজ হওয়ার পর বিক্রমের ভাই বা বোন সোশ্যাল মিডিয়া রেডিট-এ একটি আবেদনও জানান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, বিক্রমের উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ১৭০ পাউন্ড, তাঁর চুল কালো এবং তিনি ১ আগস্ট রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে আর যোগাযোগ করেননি। পোস্টে আরও জানানো হয়, বিক্রম বিগ পাইন লেকস এলাকায়, বিশেষ করে আগাসিজ কোল-এর দিকে ট্রেক করছিলেন। তিনি রাত ৮টা ৩৭ মিনিট-এ পরিবারের কাছে শেষ অবস্থানের তথ্য পাঠিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্য লিখেছিলেন, বিক্রম একজন অভিজ্ঞ ট্রেকার এবং তিনি এমন একটি অংশে পৌঁছেছিলেন, যেটি তুলনামূলকভাবে সহজ বলে মনে করা হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে তাঁর ফিরে না আসায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তাঁর গাড়িটিও ট্রেইলহেডেই দাঁড়িয়ে ছিল বলে জানানো হয়। তল্লাশি অভিযানের পর বিক্রমের ভাই আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট দেন। সেখানে তিনি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দলের সদস্য এবং অভিযানে সাহায্য করা প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দুঃখজনকভাবে তাঁর ভাই আর বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করেন। উদ্ধার অভিযানের পর বিক্রমের দেহ মিললেও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মহল এবং পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।