India's Defence Export: ব্রহ্মোসের গণ্ডি পেরিয়ে নয়া দিগন্তে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি, কোন অস্ত্রে ভবিষ্যতের বাজি?

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, যা আগের বছরের ২৩,৬২২ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৬২.৬৬ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক সংস্থার সংখ্যাও বেড়ে ১৪৫-এ পৌঁছেছে।

Published on: Aug 7, 2026, 09:23:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India's Defence Export Update: ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির কথা উঠলেই এতদিন প্রথমেই উঠে আসত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোসের নাম। ফিলিপিন্স-সহ একাধিক দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের রপ্তানি বাজার আর শুধুমাত্র একটি বড় অস্ত্র ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে না। বরং ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, স্মার্ট গোলাবারুদ, রাডার, সেন্সর এবং প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্সই ভারতের নতুন রপ্তানি শক্তি হয়ে উঠতে চলেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা ছুঁয়েছে (AFP)
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা ছুঁয়েছে (AFP)

এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, যা আগের বছরের ২৩,৬২২ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৬২.৬৬ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক সংস্থার সংখ্যাও বেড়ে ১২৮ থেকে ১৪৫-এ পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাওয়ায় বিশ্ববাজারেও অস্ত্রের চাহিদার ধরণ বদলাচ্ছে। একসময় যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক কিংবা অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রই ছিল সামরিক শক্তির প্রধান প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো দেখিয়েছে, কম খরচে পরিচালনাযোগ্য ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই এখন যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে।

এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগোচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প। নয়ডা-ভিত্তিক সংস্থা আইজি ডিফেন্স তৈরি করেছে 'KAL' নামে একটি দীর্ঘ-পাল্লার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন। সংস্থার দাবি, এই ড্রোন এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা আকাশে থাকতে সক্ষম এবং প্রায় ৫০ কেজি পর্যন্ত পে-লোড বহন করতে পারে। সরকারি অনুমোদন মিললেই আন্তর্জাতিক বাজারে এটি রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।

আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয়র মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ-পাল্লার স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম অস্ত্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, উন্নয়নশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলি তুলনামূলক কম খরচে উন্নত প্রযুক্তির ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ দেখাবে।

তবে ভারতের রপ্তানি কৌশল শুধু ড্রোনেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার, ATAGS আর্টিলারি গান, আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সাথী ওয়েপন লোকেটিং রাডার, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা, গোলাবারুদ, সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিমান ও হেলিকপ্টারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও রপ্তানি তালিকায় যুক্ত হয়েছে। আর্মেনিয়া ইতিমধ্যেই পিনাকা ও ভারতীয় আর্টিলারি ব্যবস্থা কিনেছে, আর ফিলিপিন্স ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বাজার হতে পারে অস্ত্রের ভেতরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি। অস্ত্রের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে তার ফিউজ, গাইডেন্স সিস্টেম, সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক্সের উপর। এই ক্ষেত্রেই বড় সম্ভাবনা দেখছে অ্যামুনিক সিস্টেমস। সংস্থার সিইও প্রিয়াঙ্কা সিংহলের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ভবিষ্যৎ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা কামান বিক্রিতে নয়, বরং সেই অস্ত্রকে ‘স্মার্ট’ করে তোলা প্রযুক্তি রপ্তানির মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই ডিআরডিও, আইআইটি মাদ্রাজ এবং মিউনিশনস ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে সাধারণ আর্টিলারি শেলকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তরের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।

সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫০,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রপ্তানির লক্ষ্য স্থির করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে শুধু ব্রহ্মোস নয়, বরং ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, সেন্সর, ইলেকট্রনিক্স, গোলাবারুদ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিস্তৃত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই ভারতের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More