'ভারত সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে!' নর্দার্ন সি রুটকে কেন্দ্র করে নয়া বাণিজ্যিক জোটের ইঙ্গিত পুতিনের, ইউরোপকে হুঁশিয়ারি

Vladimir Putin on NSR: প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ‘ভারিয়াগ’-এর কর্মীদের উদ্দেশে এক সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে পশ্চিমী দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নানা বিধিনিষেধ চাপালেও রাশিয়ার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে উত্তর সমুদ্রপথে সহযোগিতা থেমে নেই।

Published on: Aug 14, 2026, 19:02:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Vladimir Putin on NSR: পশ্চিমের দেশগুলো কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও রাশিয়ার ওপর দিয়ে যাওয়া উত্তর সমুদ্রপথ বা ‘নর্দার্ন সি রুট’ (NSR) ব্যবহার করতে ভারতের (India) আগ্রহ বাড়ছে বলে জানালেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। অন্যদিকে, ইউরোপ যদি রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ আটক করে, তবে কড়া জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

নর্দার্ন সি রুটে নতুন বাণিজ্যিক জোটের ইঙ্গিত ভ্লাদিমির পুতিনের (via REUTERS)
নর্দার্ন সি রুটে নতুন বাণিজ্যিক জোটের ইঙ্গিত ভ্লাদিমির পুতিনের (via REUTERS)

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ‘ভারিয়াগ’-এর কর্মীদের উদ্দেশে এক সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে পশ্চিমী দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নানা বিধিনিষেধ চাপালেও রাশিয়ার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে উত্তর সমুদ্রপথে সহযোগিতা থেমে নেই। তিনি বলেন, 'আমাদের বন্ধু চিন, ভারত ও অন্যান্য দেশগুলো এই রুটে যুক্ত হতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং তারা আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।' এর মধ্যে বাণিজ্য ও আর্কটিক শিপিংয়ের ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও সমস্ত কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। এনএসআর প্রায় ৫,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা রাশিয়ার আর্কটিক উপকূল বরাবর বিস্তৃত এবং এটি পূর্ব এশিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে সংযোগকারী সংক্ষিপ্ততম নৌপথ। রাশিয়া এনএসআর পরিকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। ২০২৩ সালে, রাশিয়া দুবাই-ভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আর্কটিক রুটে কন্টেইনার শিপিং বিকাশের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

ওই অনুষ্ঠানে পুতিন আর্কটিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো)-র সম্প্রসারণ এবং বহিরাগত শক্তিগুলোর অপ্রয়োজনীয় তৎপরতা এই অঞ্চলে এক ধরনের কৃত্রিম উত্তেজনা তৈরি করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর পশ্চিমী বিশ্ব যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা এড়াতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে পশ্চিমীরা ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসব জাহাজ ও নাবিকদের আটক করতে সমুদ্রপথে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। এর জবাবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর সূত্রে পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি কোনও রাশিয়ান জাহাজ আটক করে, তবে তা সরাসরি জলদস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'যদি বাস্তবে এটি প্রয়োগ করা হয়, তবে আমরাও উপযুক্ত জবাব দিতে বাধ্য হব। রাশিয়ার পাল্টা পদক্ষেপ কেবল সেই সামুদ্রিক অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না যেখানে জাহাজ আটক করা হবে; বরং মস্কো যেখানেই প্রয়োজন ও উপযুক্ত মনে করবে, ঠিক সেখানেই আঘাত হানবে।' ফলে একদিকে উত্তর সমুদ্রপথে ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে পশ্চিমী দেশগুলোর সঙ্গে সামুদ্রিক উত্তেজনা-দুই দিক থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্কটিক অঞ্চল।