India's Space War Capabilities: মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি! কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন আমেরিকার, মহাকাশে ভারতের শক্তি কতটুকু?
ঠিক কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে মোতায়েন করা হয়েছে, কোথায় রয়েছে, কতদিন ধরে রয়েছে বা আদৌ সেগুলির কোনও পরীক্ষা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়নি পেন্টাগন। মেইঙ্কের বক্তব্য, অস্ত্রগুলির প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হলে তা আমেরিকার কৌশলগত সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে।
মহাকাশ যুদ্ধ আর শুধু সিনেমা বা কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়। এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করল আমেরিকা—পৃথিবীর কক্ষপথে তাদের অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। সোমবার মার্কিন এয়ার ফোর্সের সেক্রেটারি ট্রয় ই. মেইঙ্ক জানান, আমেরিকার কাছে এমন ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ রয়েছে, যা শত্রুর আক্রমণ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।

তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে মোতায়েন করা হয়েছে, কোথায় রয়েছে, কতদিন ধরে রয়েছে বা আদৌ সেগুলির কোনও পরীক্ষা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়নি পেন্টাগন। মেইঙ্কের বক্তব্য, অস্ত্রগুলির প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হলে তা আমেরিকার কৌশলগত সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ ওয়াশিংটন অস্ত্র থাকার কথা জানালেও তার ক্ষমতার বড় অংশই গোপন রাখছে।
এই ঘোষণার গুরুত্ব আরও বাড়ছে কারণ গত কয়েক বছরে মহাকাশ ধীরে ধীরে আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার উপগ্রহগুলির গতিবিধি নিয়ে আগেই একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার কিছু স্যাটেলাইট এমন কক্ষপথে পৌঁছেছে, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব।
চিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে কয়েকটি চিনা মহাকাশযান সমন্বিতভাবে নিম্ন-কক্ষপথে manoeuvre করেছিল। মার্কিন স্পেস ফোর্সের কর্মকর্তারা পরবর্তীতে এই ধরনের কার্যকলাপকে মহাকাশে ‘dogfighting’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, একই ধরনের manoeuvre উপগ্রহ পরিদর্শন, নজরদারি বা পরিষেবার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রাশিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রকাশ্যে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০২১ সালে রাশিয়া একটি নিজেদের উপগ্রহকে মিসাইল দিয়ে ধ্বংস করে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ মহাকাশ বর্জ্য তৈরি হয়। এসব ঘটনাই দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে উপগ্রহ শুধু যোগাযোগ বা নজরদারির মাধ্যম নয়, সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার নতুন অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াশিংটনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, শুধু নিজেদের স্যাটেলাইট রক্ষা করাই এখন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করছে তারা। সম্ভাব্য অস্ত্রের মধ্যে ইলেকট্রনিক জ্যামার, লেজার বা অন্য ধরনের counter-space system থাকতে পারে। তবে পেন্টাগন কোনও নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম প্রকাশ করেনি।
এখানেই ভারতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশ যুদ্ধে ভারতের অবস্থানও গত কয়েক বছরে দ্রুত বদলেছে। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ‘মিশন শক্তি’-র মাধ্যমে ভারত পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রকাশ্যে দেখায়। ডিআরডিও-র তৈরি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ইন্টারসেপ্টর দিয়ে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উচ্চতায় উপগ্রহটি ধ্বংস করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পর ভারত চতুর্থ দেশ হিসেবে এই ধরনের সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
তবে আমেরিকার মতো কক্ষপথে আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েন করেছে—এমন কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও নেই ভারতের ক্ষেত্রে। ভারতের শক্তি মূলত বিভিন্ন স্তরে তৈরি হচ্ছে। সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট, গোয়েন্দা নজরদারি, নেভিগেশন, মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং electronic warfare-এর পাশাপাশি ভারত counter-space প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে।
২০২৪ সালের ‘অন্তরীক্ষ অভ্যাস’-এর মতো মহাকাশ যুদ্ধের মহড়ার মাধ্যমে তিন বাহিনীর মধ্যে space warfare coordination আরও বাড়ানো হচ্ছে। ডিআরডিও-র প্রযুক্তিগত রোডম্যাপেও directed-energy weapon, high-power laser-এর মতো প্রযুক্তির গবেষণার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ মহাকাশ এখন শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্র নয়, জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট। আমেরিকা যখন প্রকাশ্যে জানাচ্ছে যে তাদের অস্ত্র ইতিমধ্যেই কক্ষপথে রয়েছে, তখন ভারতও নিজের counter-space সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি মহাকাশও যে বড় সামরিক প্রতিযোগিতার মঞ্চ হয়ে উঠবে, তার ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


