Class 9 Textbook: জরুরি অবস্থার ইতিহাস এবার নবম শ্রেণির পাঠ্যে! ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ বাদ পড়ায় কংগ্রেসের নিশানায় NCERT
NCERT Class 9 Textbook: সূত্রের খবর, আগে যে বইটি নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা পেত, সেখানে ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি ১’ শীর্ষক অধ্যায়ে ভারতীয় সংবিধান ও তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা ছিল। সেখানে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে দার্শনিক ভিত্তির নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
NCERT Class 9 Textbook: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র আওতায় স্কুলশিক্ষায় এবার বড় পরিবর্তন। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হল ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চলা 'জরুরি অবস্থা।' ইতিহাসে এই প্রথমবার, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা সেই জরুরি অবস্থার কথা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-র পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করা হল। জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইতে এই বদল আনা হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিইআরটি-র নতুন পাঠ্যবই ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রস্তাবনাভুক্ত ‘সার্বভৌম’, ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’-র মতো শব্দগুলো নতুন পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়নি।

সূত্রের খবর, আগে যে বইটি নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা পেত, সেখানে ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি ১’ শীর্ষক অধ্যায়ে ভারতীয় সংবিধান ও তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা ছিল। সেখানে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে দার্শনিক ভিত্তির নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ওই অধ্যায়ে ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের কোনও সরকারি ধর্ম থাকে না এবং সকল ধর্মকে সমান ভাবে দেখা হয়। কিন্তু ২২০ পাতার নতুন পাঠ্যবইয়ে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বরং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধান এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কেও নতুন করে আলোচনা যুক্ত হয়েছে।
তবে নতুন বইয়ে এই বিষয়গুলো বাদ পড়ার পাশাপাশি জরুরি অবস্থার ইতিহাস নিয়ে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’, সেখানে সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৪৬ সালে গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধান রচনার কাজ শুরু হয়। বইটিতে সংবিধানকে একটি শক্তিশালী, নমনীয় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচার এবং ধর্মাচরণের অধিকারের বিষয়েও আলোচনা রাখা হয়েছে। নবম শ্রেণির বইয়ে জরুরি অবস্থার যে বিবরণ রয়েছে তা হল, ‘১৯৭৫-’৭৭ জরুরি অবস্থা কার্যকার থাকাকালীন ভারতীয় গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধতকার সৃষ্টি হয়। সাতের দশকের গোড়ার দিকে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছিল। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, অপশাসনের অভিযোগে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছিল দিকে দিকে। অভ্যন্তরীণ অশান্তির দোহাই দিয়ে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকারগুলি খর্ব হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়, গ্রেফতার করা হয় বহু রাজনীতিক, সমাজকর্মীদের।’
এদিকে, নতুন পাঠ্যবইয়ে জরুরি অবস্থার অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করাকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক্স হ্যান্ডলে সংবিধান হত্যা দিবসের ইতিহাস ব্যাখ্যা করে তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পড়ুয়াদের সেই সময়ের ‘অশুভ কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে জানা উচিত। অন্যদিকে, এনসিইআরটি-র এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই বই, ইতিহাস এবং সাহিত্যকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। সেটা বিজেপির লক্ষ্য হলেও, আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে।' উদ্ধব-শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, 'জরুরি অবস্থা একটি সাংবিধানিক বিধান, কোনও ঐতিহাসিক ঘটনা বা অধ্যয়নের বিষয় নয়। গত ১২ বছর ধরে জরুরি অবস্থা চলছে। ইন্দিরা গান্ধী কোনও দলকে ভেঙে খান খান করেননি।'
উল্লেখ্য, এনসিইআরটি আগেই জানিয়েছিল, নবম শ্রেণিতে ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পৃথক বইয়ের বদলে একটি সমন্বিত সমাজবিজ্ঞানের বই চালু করা হবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন পাঠ্যবইটি কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে এই পরিবর্তনকে ঘিরে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
E-Paper

