International Media on India's BRICS Success: ‘নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে’ বড় সাফল্য ভারতের, প্রশংসা বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও
সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য কাটিয়ে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র’ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে ব্রিকসে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাব আরও বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি। ফলে এবার ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
International Media on India's BRICS Success: ব্রিকস সম্মেলনে বড় কূটনৈতিক সাফল্য পেল ভারত। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য কাটিয়ে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র’ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাব আরও বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি। ফলে এবার ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই কাজেই সাফল্য মিলেছে।

পশ্চিম এশিয়া নিয়ে কৌশলী বার্তা
নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে খুব সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রিকস জানিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘ সনদের নীতির ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে হবে। দেশগুলির সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের সমাধানে আলোচনা এবং কূটনীতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি নিয়েও সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ভারতের প্রশংসা
নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রের প্রভাব বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও দেখা গেছে। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ ভারত ও চিনের সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘গ্লোবাল টাইমস’ ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের একটি ক্রমশ শক্তিশালী জোট হিসেবে তুলে ধরেছে।
‘আল জাজিরা’ জানিয়েছে, আমেরিকার ট্যারিফ এবং বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এই সম্মেলন হচ্ছে। তাদের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্যনীতিকে ব্রিকসের বিস্তারে সহায়ক কারণ হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ আবার ইরানের উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। তেলের দাম বাড়ার সময়ে চিন, ভারত, রাশিয়া এবং ইরানের নেতাদের একই মঞ্চে থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
চিনের সঙ্গে চার দফা বার্তা
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে। শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে চারটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। প্রথমত, ভারত ও চিনকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ, রাষ্ট্রসংঘ, SCO এবং G20-এর মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে জোর
ব্রিকস ঘোষণাপত্রে স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর পথ আরও জোরদার হতে পারে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
সাইবার জালিয়াতি ও AI নিয়েও সিদ্ধান্ত
সংগঠিত সাইবার প্রতারণা চালানো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিকস। অবৈধ অর্থের উৎস খুঁজে বের করতেও আন্তর্জাতিক সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র ভারতের জন্য শুধু একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়। ব্রিকসের ভিতরে ঐকমত্য তৈরি করে নয়াদিল্লি নিজের নেতৃত্বের ভূমিকা আরও স্পষ্ট করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


