iPhone Duo Price & other Details: অ্যাপলের নতুন বাজি! প্রকাশ্যে ভাঁজ করা আইফোন, দাম কত রাখা হল?
অনুষ্ঠানে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস মঞ্চে উঠে বলেন, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ব্যবহার সহজ এবং স্বাভাবিক হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে অ্যাপল এ বার আইফোনের ডিজাইন, কর্মক্ষমতা এবং সফটওয়্যারে একাধিক বড় পরিবর্তন এনেছে।
iPhone Duo Price & other Details: অ্যাপলের নতুন অধ্যায়ের শুরু। একসঙ্গে বাজারে এল আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং বহু প্রতীক্ষিত ভাঁজ করা আইফোন ডুও। এর সঙ্গেই নতুন অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫-এরও ঘোষণা হয়েছে। টিম কুকের পর অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটাই প্রথম বড় প্রোডাক্ট উন্মোচন। ফলে গোটা প্রযুক্তি দুনিয়ার নজর ছিল এই অনুষ্ঠানের দিকে।

অনুষ্ঠানে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস মঞ্চে উঠে বলেন, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ব্যবহার সহজ এবং স্বাভাবিক হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে অ্যাপল এ বার আইফোনের ডিজাইন, কর্মক্ষমতা এবং সফটওয়্যারে একাধিক বড় পরিবর্তন এনেছে।
ভাঁজ করা আইফোনেই সবচেয়ে বড় চমক
এ বারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ভাঁজ করা আইফোন ডুও। বহু বছর ধরে ভাঁজ করা ফোনের বাজারে স্যামসাং, হুয়াওয়ে, শাওমি, ভিভো-সহ একাধিক সংস্থা কাজ করলেও অ্যাপল এত দিন এই বাজারে আসেনি। অনেকটা অপেক্ষা করে এ বার সেই প্রতিযোগিতায় নামল অ্যাপল।
আইফোন ডুও-র দামও সেই কারণেই নজরকাড়া। বিশ্ববাজারে এর দাম শুরু হচ্ছে ১,৯৯৯ ডলার থেকে। ভারতে দাম শুরু ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা থেকে। অর্থাৎ এটিই অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোন।
এই ফোনের ডিজাইন সাধারণ বইয়ের মতো ভাঁজ হওয়া ফোনের থেকে আলাদা। এটি তুলনায় ছোট এবং চওড়া। অনেকটা পাসপোর্টের মতো আকৃতি। এর ফলে ফোনটি হাতে ধরতে সুবিধা হওয়ার পাশাপাশি ভাঁজ খোলার পরে স্ক্রিনে একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি চালানোর সুবিধাও পাওয়া যাবে। অনেকটা আইপ্যাডে একসঙ্গে একাধিক কাজ করার মতো অভিজ্ঞতা দিতে চাইছে অ্যাপল।
আইফোন ডুও-তে অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহারের সুবিধাও থাকছে। ফলে ফোনটি শুধু যোগাযোগ বা বিনোদনের জন্য নয়, নোট নেওয়া, কাজ করা এবং কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।
দুই ডিসপ্লে, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট
আইফোন ডুও-তে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর কভার ডিসপ্লে। এই স্ক্রিনে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। অর্থাৎ স্ক্রিনে ছবি, ভিডিও বা স্ক্রলিং আরও মসৃণ দেখাবে। ফোনটি খুললে পাওয়া যাবে বড় ৭.৬ ইঞ্চির ফ্লেক্সিবল ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। এখানেও ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট রয়েছে।
ভাঁজ করা ফোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি হল স্ক্রিনের মাঝখানের ভাঁজের দাগ। অ্যাপলের দাবি, বহু বছরের প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে নতুন আইফোনে সেই ক্রিজ বা ভাঁজের দাগ তুলনায় কম চোখে পড়বে। এর সঙ্গে রয়েছে নতুন ধরনের ম্যাগনেটিক হিঞ্জ বা চুম্বক-ভিত্তিক কবজা ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন খোলা ও বন্ধ করার প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ক্যামেরায় ডুয়াল ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর
আইফোন ডুও-র পিছনে থাকছে দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। একটি ওয়াইড ক্যামেরা, অন্যটি আল্ট্রা-ওয়াইড। তবে এ প্রজন্মের মডেলে টেলিফোটো ক্যামেরা নেই। সামনে থাকছে ১২ মেগাপিক্সেলের ফেসটাইম ক্যামেরা। ফলে ছবি তোলা, ভিডিও কল এবং কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে উন্নত মানের ক্যামেরা পারফরম্যান্স পাওয়ার দাবি করছে অ্যাপল। স্টোরেজের ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক বিকল্প। ২৫৬ জিবি থেকে শুরু করে ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজ বেছে নেওয়া যাবে। ফোনটিতে টাচ আইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তিও থাকছে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আইফোন ডুও বিশ্বজুড়েই ই-সিম নির্ভর হবে। অর্থাৎ প্রচলিত ফিজিক্যাল সিম কার্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
এ২০ প্রো চিপে বড় শক্তি
অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম বড় পরিবর্তন ভিতরের চিপে। আইফোন ডুও, আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স—তিনটি ফোনেই ব্যবহার করা হয়েছে নতুন এ২০ প্রো চিপ। এটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির উপর তৈরি। নতুন চিপের মূল লক্ষ্য হল আরও বেশি কর্মক্ষমতা এবং কম বিদ্যুৎ খরচ।
বিশেষ করে ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর কাজের জন্য নতুন চিপকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন এআই ফিচার ফোনের ভিতরেই দ্রুত চালানো যাবে। তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বেশি কাজ করলেও ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব সি২ মডেমও এই নতুন প্রজন্মের ফোনে থাকছে। অর্থাৎ চিপ থেকে মডেম—অ্যাপল ধীরে ধীরে আরও বেশি প্রযুক্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনছে।
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজেও বড় আপগ্রেড
শুধু ভাঁজ করা আইফোন নয়, আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বাইরে থেকে ডিজাইনে খুব বড় পরিবর্তন চোখে পড়বে না। তবে ভিতরে রয়েছে একাধিক আপগ্রেড। নতুন এ২০ প্রো চিপের পাশাপাশি ব্যাটারির ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ডিসপ্লেতেও এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ডায়নামিক আইল্যান্ডের আকার কিছুটা ছোট করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি এখন একসঙ্গে তিনটি লাইভ অ্যাক্টিভিটি দেখাতে পারবে। ফলে বিভিন্ন অ্যাপের চলতি তথ্য একসঙ্গে স্ক্রিনে দেখার সুবিধা বাড়বে।
ক্যামেরায় এবার অ্যাপলের বড় পরীক্ষা
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের ক্যামেরায় এসেছে মেকানিক্যাল ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার। এটি ক্যামেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। সহজ করে বললে, ক্যামেরার লেন্সের ভিতরে থাকা একটি অংশ কতটা খুলবে বা বন্ধ হবে, সেটি প্রয়োজন অনুযায়ী বদলানো যাবে। এর ফলে কতটা আলো ক্যামেরার সেন্সরে ঢুকবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কম আলো, বেশি আলো বা বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ছবির মান উন্নত করতে পারে। একই সঙ্গে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড কতটা ঝাপসা হবে এবং আলোর ভারসাম্য কেমন হবে, সেই নিয়ন্ত্রণও আরও উন্নত হতে পারে। রঙের পুনরুৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ বাস্তব দৃশ্যের সঙ্গে ছবির রঙ আরও কাছাকাছি করার চেষ্টা করছে অ্যাপল।
ভারতে বাড়ল দাম
আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ভারতে আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম শুরু হচ্ছে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা থেকে। আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হচ্ছে ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯০০ টাকা থেকে। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের আইফোন কিনতে ভারতীয় ক্রেতাদের আরও বেশি টাকা খরচ করতে হবে। অ্যাপলের যুক্তি, উন্নত চিপ, ক্যামেরা, ডিসপ্লে এবং নতুন প্রযুক্তির জন্য ফোনের ভিতরের উপাদানের খরচও বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতাও স্মার্টফোনের দামে প্রভাব ফেলছে।
আইওএস ২৭-এ এআই-কে আরও সামনে আনছে অ্যাপল
নতুন আইফোনের সঙ্গে অ্যাপলের নতুন অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ২৭-ও আসছে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। অ্যাপল চাইছে, আইফোন এবং অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসে এআই শুধু আলাদা একটি ফিচার হয়ে না থেকে ব্যক্তিগত সহকারী বা বুদ্ধিমান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করুক। এ বার এআই ব্যবস্থার সঙ্গে গুগলের অংশীদারিত্বও রয়েছে। পুরো ব্যবস্থায় অন-ডিভাইস এবং সার্ভার-ভিত্তিক একাধিক মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যাপলের এএফএম ৩ কোর অ্যাডভান্সড নামে নতুন অন-ডিভাইস মডেলে প্রায় ২০ বিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এর মধ্যে ১ থেকে ৪ বিলিয়ন প্যারামিটার সক্রিয় হতে পারে। এর ফলে সব ধরনের কাজের জন্য সম্পূর্ণ মডেল চালানোর প্রয়োজন হবে না। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা এবং ব্যাটারি ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা যাবে।
আইফোন থেকে আইফোনে নতুন হ্যান্ডঅফ সুবিধা
আইওএস ২৭-এ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার আসছে—নতুন আইফোন হ্যান্ডঅফ।এর মাধ্যমে কোনও ব্যবহারকারী দ্বিতীয় একটি আইফোনকে মূল ফোনের সঙ্গে সহায়ক ডিভাইস হিসেবে সেট আপ করতে পারবেন। একই মোবাইল নম্বরও দুই ফোনে ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এই সুবিধা প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু দেশের মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারীর জন্য চালু হবে। ভারতে এই সুবিধা কবে পাওয়া যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অ্যাপল ওয়াচেও স্বাস্থ্য-নির্ভর জোর
নতুন অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং চতুর্থ প্রজন্মের ওয়াচ আল্ট্রাতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন রঙের পাশাপাশি আবার সিরামিক নির্মাণের বিকল্প ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, সফটওয়্যারেও জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন রেডিনেস অ্যাপ বিশেষ নজর কেড়েছে। এটি আগের ভাইটালস ব্যবস্থার আরও উন্নত সংস্করণ। হৃদ্যন্ত্রের তথ্য, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উপর নজর রাখতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে।
স্বাস্থ্য অ্যাপেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ শক্তির ওয়ার্কআউট এবং নতুন অপটিক্যাল সেন্সিং প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে। ফলে অ্যাপল ওয়াচকে শুধু ঘড়ি হিসেবে নয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য ও ফিটনেস পর্যবেক্ষণের যন্ত্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে অ্যাপল।
এয়ারপডস ৫-তেও আপগ্রেড
অ্যাপলের নতুন এয়ারপডস ৫-তেও এসেছে নতুন অডিও হার্ডওয়্যার এবং উন্নত অডিও প্রসেসিং প্রযুক্তি। শব্দ বিশ্লেষণ ও প্রসেসিংয়ের জন্য নতুন অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নয়েজ ক্যানসেলেশন ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও আগের মতো দুটি বিকল্প থাকবে। একটি সাধারণ চার্জিং কেস এবং অন্যটি ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থনকারী কেস।
টিম কুকের পর টার্নাসের সামনে বড় পরীক্ষা
এই পুরো লঞ্চ ইভেন্টের পিছনে আরও একটি বড় বিষয় রয়েছে—অ্যাপলের নেতৃত্বে পরিবর্তন। টিম কুকের জায়গায় অ্যাপলের সিইও হয়েছেন জন টার্নাস। কুকের প্রায় ১৫ বছরের নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্য প্রায় ৩৪৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দামও বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। ফলে টার্নাসের সামনে চ্যালেঞ্জও অনেক বড়। তাঁকে শুধু নতুন পণ্য বাজারে আনলেই হবে না, অ্যাপলের বৃদ্ধির ধারাও ধরে রাখতে হবে। এ বারের লঞ্চকে সেই নতুন অধ্যায়ের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৭-এ আসতে পারে স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮
এ বার অ্যাপলের ঐতিহ্যবাহী আইফোন লাইনআপে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে পড়েছে। সাধারণ আইফোন ১৮ এবং তার পরবর্তী মডেলগুলি এই অনুষ্ঠানে আসেনি।প্রত্যাশা অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮ এবং আইফোন ১৮ই সম্ভবত ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে বাজারে আসতে পারে। অর্থাৎ অ্যাপল এখন ধীরে ধীরে সাধারণ ক্রেতার জন্য তৈরি আইফোন এবং উচ্চ দামের প্রো মডেলগুলিকে আলাদা কৌশলে বাজারে আনতে চাইছে। একদিকে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য প্রো ও ভাঁজ করা মডেল, অন্যদিকে পরে তুলনায় সাধারণ দামের আইফোন—এই কৌশল ভবিষ্যতে অ্যাপলের পোর্টফোলিওকে আরও বড় করতে পারে।
ভাঁজ করা ফোনের বাজারে অ্যাপল কি নতুন গতি আনবে?
অ্যাপল যখন ভাঁজ করা ফোনের বাজারে ঢুকল, তখন এই সেগমেন্টে ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থা উপস্থিত। স্যামসাং, হুয়াওয়ে, শাওমি, ভিভো-সহ বিভিন্ন সংস্থা বহু বছর ধরে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ফলে অ্যাপলের সামনে প্রথম প্রশ্ন, এত দেরিতে এসে তারা কতটা আলাদা কিছু দিতে পারবে।
তবে অ্যাপল নিজের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে কয়েক বছরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। আগে যেখানে ভাঁজ করা ফোনের স্ক্রিন, কবজা, ব্যাটারি এবং স্থায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল, সেখানে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য। অ্যাপল সেই উন্নত প্রযুক্তিকে নিজের ডিজাইন, সফটওয়্যার এবং চিপের সঙ্গে মিলিয়ে বাজারে এনেছে।
আর সবচেয়ে বড় বিষয়, অ্যাপলের ব্র্যান্ডের প্রভাব এই বাজারে নতুন ক্রেতা আনতে পারে। এত দিন যারা ভাঁজ করা ফোন কেনার কথা ভাবেননি, তারা হয়তো অ্যাপলের ডুও দেখে এই বাজারে ঢুকতে পারেন। ফলে আইফোন ডুও শুধু অ্যাপলের জন্য নতুন একটি ফোন নয়। এটি পুরো ভাঁজ করা ফোনের বাজারকেই নতুন গতি দিতে পারে।
অ্যাপলের ৫০ বছরের যাত্রার পর নতুন অধ্যায়
অ্যাপল এ বছর ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের পরই নতুন নেতৃত্বে এসে সংস্থাটি একসঙ্গে নতুন আইফোন, ভাঁজ করা আইফোন, নতুন ওয়াচ এবং এয়ারপডস নিয়ে বড় লঞ্চ করল।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, অ্যাপল এখন শুধু একটি নতুন আইফোন বাজারে আনার পথে নেই। সংস্থাটি আগামী এক বছরে ম্যাক, আইপ্যাড, হোম ডিভাইস-সহ আরও একাধিক পণ্যে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন সিইও জন টার্নাসের কাছে তাই এই লঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ভাঁজ করা আইফোন ডুও-কে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই নতুন ফোন কি সত্যিই অ্যাপলের পরবর্তী বড় সাফল্যের মুখ হয়ে উঠবে, নাকি এটি শুধুই অত্যন্ত দামি আর একটি প্রিমিয়াম ডিভাইস হয়ে থাকবে? উত্তর মিলবে বাজারে ফোনটির বাস্তব সাফল্য দেখা গেলে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


