রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত সুশান্তের মৃত্যু-মামলার তদন্তকারী IPS অফিসার নুপূর প্রসাদ
President's Medal: ২০২০ সালের ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তর জলঘোলা হয় জাতীয় রাজনীতিতে। পরে এই ঘটনার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
President's Medal: অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলার সিবিআই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আইপিএস অফিসার নুপূর প্রসাদের (Nupur Prasad) মুকুটে এবার নতুন পালক। চলতি বছর রাষ্ট্রপতি পদক 'মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস' (MSM)-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ২০০৭ ব্যাচের এজিএমউটি ক্যাডারের এই পুলিশ আধিকারিক। সম্প্রতি সিবিআইয়ের (CBI) দায়িত্ব শেষ করে দিল্লি পুলিশে ফিরেছেন নুপূর প্রসাদ।

বর্তমানে নুপূর প্রসাদ ইকোনমিক অফেন্সেস উইং-এ (EOW) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর্থিক প্রতারণা ও অর্থনৈতিক অপরাধের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত তাঁর তত্ত্বাবধানে চলছে। জটিল তদন্ত পরিচালনা এবং বড় পুলিশি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার জন্য তিনি পরিচিত। দীর্ঘ পুলিশি কর্মজীবনে দিল্লি, সিবিআই, অরুণাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। নুপূর প্রসাদ নারী আত্মরক্ষা, যুব উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা-সহ একাধিক কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সুশান্ত সিং রাজপুত মামলায় ভূমিকা
২০২০ সালের ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তর জলঘোলা হয় জাতীয় রাজনীতিতে। পরে এই ঘটনার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। অভিনেতাকে আত্মহত্যা প্ররোচনা দেওয়া, বিষ প্রয়োগ করা এবং সম্পত্তির আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বান্ধবী এবং অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর নূপুর প্রসাদ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। সাক্ষীদের বক্তব্য, ফরেনসিক তথ্য এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিল। ২০২৫ সালে সিবিআই মামলাটির ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয়। তদন্তে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনও অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
দিল্লি পুলিশে কর্মজীবন
সিবিআই-তে যোগ দেওয়ার আগে দিল্লি পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন নূপুর প্রসাদ। শাহদারা নতুন জেলা হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরে তিনিই সেখানকার প্রথম ডেপুটি কমিশনার (DCP) হন। নতুন জেলায় পুলিশি ব্যবস্থা কী ভাবে ঢেলে সাজানো হবে এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো কেমন হবে, তার কাজও নূপুরের হাত ধরেই শুরু হয়। শাহদারায় মাদক চক্র এবং বেআইনি জুয়ার ব্যবসা রুখতে বেশ কয়েকটি বড় অভিযানও চালান তিনি। পরবর্তীতে তিনি উত্তর দিল্লির ডিসিপি হিসেবে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির নিরাপত্তার দায়িত্বও সামলান।
অন্যান্য আলোচিত তদন্ত
সিবিআই-তে যোগ দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী দলেও ছিলেন তিনি। তার মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যের বিরুদ্ধে মামলা এবং ‘অগাস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড’ হেলিকপ্টার চুক্তি কেলেঙ্কারি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবেই এবার রাষ্ট্রপতি পদকের জন্য নির্বাচিত হলেন নুপূর প্রসাদ। এই সম্মান তাঁর দীর্ঘ পুলিশি কর্মজীবনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যোগ করল।
E-Paper

