US-Iran Conflict: ফের মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা! ইরানে একযোগে হামলা US-র, প্রতিবেশী দেশে পাল্টা জবাব তেহরানের
US-Iran Conflict: ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘ফের যুদ্ধবিরতি ভাঙলে আমাদের সেনা বাকি কাজ শেষ করে আসবে।’
US-Iran Conflict: যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই ফের যুদ্ধ ঘনিয়ে এল পশ্চিম এশিয়ায়। শনিবারের পর রবিবার ভোরে ফের ইরানে হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার জেরে শনিবার রাতে ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে অন্তর্বর্তী সমঝোতা (এমওইউ) স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তাই আর আশঙ্কা নয়, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় ইরানের নজরদারি, যোগাযোগ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে মাইন পাতা–সংক্রান্ত স্থাপনা-সহ ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এক্সে দেওয়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সেন্টকম ওই ভিডিওটি পোস্ট করে। ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী হরমুজের কাছে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানালেও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রবিবার ভোরেও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এদিকে, ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘ফের যুদ্ধবিরতি ভাঙলে আমাদের সেনা বাকি কাজ শেষ করে আসবে।’ হামলার কথা স্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলের রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। মনে হচ্ছে, ওদের কোনও দিনই শিক্ষা হবে না।’ তিনি আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমরা কিন্তু আর সংযম দেখাতে পারব না। যে অভিযান শুরু হয়েছে, আমাদের সেনা তা শেষ করে আসবে। সেই রকম হলে, ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান বলে আর কিছু থাকবে না।’
ইরানের পাল্টা জবাব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিতে দেরি করেনি ইরানও। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে কুয়েত এবং বাহরাইনে। সেখানে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানের পঞ্চম নৌবহর ঘাঁটিতে থাকা আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানায়, ‘শত্রুর যে কোনও আগ্রাসন, অজুহাত যাই হোক না কেন, এমনকী ছোট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হলেও তার কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।’ ইরানের প্রেস টিভি রেভলিউশনারি গার্ডসকে উদ্ধৃত করে বলে, 'যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতার ২ নম্বর ধারার পরিপন্থী। এর ফলে সমস্ত কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।'
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাহরাইনের সেনা মিলে ইরানের ছোড়া ন’টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন সেনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল সেগুলি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল বলেই তারা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন হামলার জবাবেই বাহরাইন এবং কুয়েতে আঘাত হানা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান।
E-Paper

