শাহবাজের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান! হরমুজে পাকিস্তানের জাহাজ আটকাল ইরান, নেপথ্যে কীসের ইঙ্গিত?
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ‘সেলেন’ নামে করাচিগামী কার্গো জাহাজটি আটকায় আইআরজিসি।
যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনুমতি ছাড়াই প্রবেশের চেষ্টা করায় যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রস্তাব দেওয়া পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজকে আটকে দিয়ে কড়া বার্তা দিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ‘সেলেন’ নামে করাচিগামী কার্গো জাহাজটি আটকায় আইআরজিসি। এক্সে হ্যান্ডেলে এক বার্তায় আইআরজিসির তরফ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজাহ থেকে করাচির পথে যাচ্ছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগে ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় জাহাজটিকে আটকানো হয়। আটকের পর জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ক্রুদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে না দিয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ মেনে জাহাজটি সেখান থেকে সরে যায়। এক্স বার্তায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি বলেন, 'আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি না থাকায় কনটেইনার জাহাজ সেলেনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই জলপথ দিয়ে যে কোনও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় প্রয়োজন।' জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। পারস্য উপসাগরকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে প্রায় সব ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করেছে ইরান, ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরহারে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতিমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজগুলো চাইলে আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে। তবে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে।
পাকিস্তানের প্রস্তাব
এদিকে, চলমান সংঘাত নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত’ আলোচনা আয়োজনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার এক্স পোস্টে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত থাকলে পাকিস্তান এই চলমান সংঘাতের একটি সমন্বিত সমাধানের লক্ষ্যে অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত এবং একে সম্মানের বিষয় বলে মনে করে।' তাঁর সেই পোস্টটিকে পুনরায় পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা ইঙ্গিত করে, শাহবাজদের ওই প্রস্তাবে সায় রয়েছে মার্কিন প্রেসি়ডেন্টেরও। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সব ধরনের আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
E-Paper

