প্রতিশোধ! একের পর এক ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ, লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের টার্গেট তেল আভিভ

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ আগেই জানিয়েছিলেন যে, ইজরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে লারিজানিও রয়েছেন। 

Published on: Mar 18, 2026, 12:35:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

একের পর এর ইরানের শীর্ষ নেতাকে খতম করছে ইজরায়েল। এবার ইজরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। এরপরেই লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে বুধবার ভোর (ভারতীয় সময়) থেকেই ইজরায়েলে একের পর এক ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, মূলত তেল আভিভকে টার্গেট করেছে তারা।

লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের টার্গেট তেল আভিভ (AFP)
লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের টার্গেট তেল আভিভ (AFP)

ইজরায়েল বলেছে, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ-আকাশে একাধিক ছোট ছোট বিস্ফোরণ ঘটায় এবং একটি বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে যায়। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে জনবহুল তেল আভিভে চালানো এই হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন। ফলে এই যুদ্ধে ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানি হামলার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ইজরায়েলের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। ইজরায়েলের জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ প্রকাশিত ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তেল আভিভের একটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আরও ধ্বংসস্তূপ। সিএনএন জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ও ড্রোন ছাড়াও ক্লাস্টার বোমাও ছুড়ছে।

ইজরায়েলি হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মৃত্যুর পরই আক্রমণের তেজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। শুধু ইজরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী আরবীয় দেশগুলিতেও একই সঙ্গে হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী। এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী একটি এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, তবে এতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে। পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এই সংঘাতকালে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জন্য আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ফের আহ্বান জানিয়েছেন। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে তাদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি তৈরি থেকে বিরত রাখা। ওই হামলায় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা-সহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। যুদ্ধের প্রথম দিনে ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর লারিজানিকে টার্গেট করা হয়।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ আগেই জানিয়েছিলেন যে, ইজরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে লারিজানিও রয়েছেন। অত্যন্ত কড়া ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, অশুভ শক্তির যে নেতারা খতম হয়েছেন, তারা খামেনির সঙ্গে নরকের অতল গহ্বরে গিয়ে মিলেছেন। এই হামলায় ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়েছেন। সেই দাবির কয়েক ঘণ্টার পর লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, শুধু লারিজানি নন, ইজরায়েলি হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। তাঁদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে কাউন্সিল। লারিজানির মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেন। তারপরই ইজরায়েলে ইরানি হামলার খবর প্রকাশ্যে এল।