US strikes Qeshm Island: বিভ্রান্তির চেষ্টায় ট্রাম্প? কেশম দ্বীপে হামলা, US-কে 'কঠোর জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

US strikes Qeshm Island: শুধু পশ্চিম এশিয়ার মধ্যেই নয়, সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের প্রভাব এ অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

Published on: Nov 3, 2026, 13:48:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

US strikes Qeshm Island: জোর চর্চা চলছিল, ইরানে পরমাণু হামলা চালাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এসবের মধ্যেই ইরানের কেশম দ্বীপে ওয়াশিংটন গোপনে একটি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।' তেহরানের কাছে কেশম দ্বীপ কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বন্দর লেঙ্গেহতে-ও দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক ইরানি সংবাদমাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনও সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোর ও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

কেশম দ্বীপে হামলা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'কঠোর জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের (AFP)
কেশম দ্বীপে হামলা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'কঠোর জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের (AFP)

শুধু পশ্চিম এশিয়ার মধ্যেই নয়, সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের প্রভাব এ অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মহম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে নতুন কোনও সামরিক অভিযান চালালে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ও বিস্তৃত আক্রমণের মুখে পড়বে। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর আর শুধু পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। আকরামিনিয়া জানান, সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে শত্রুপক্ষের বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের হামলার তালিকা হালনাগাদ করছে।

তিনি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, সেনা সদস্য এবং দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এসব লক্ষ্যবস্তু বিশ্বের যেখানেই থাকুক, সেগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, ইরানের পশ্চিম সীমান্তে স্থলপথে নতুন করে রণক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন এই সামরিক মুখপাত্র। অভিযোগ, উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে অবস্থানরত সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল শত্রুপক্ষ। তবে ইরানের সামরিক ইউনিট মোতায়েন এবং ওই গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে আগাম অভিযান চালানোর মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন আকরামিনিয়া। তিনি জানান, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, এমন শত্রুপক্ষের অবস্থান ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তার মধ্যেই কেশম দ্বীপে এই হামলার খবর এলো। যদিও 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'কে মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন পরিকাঠামো-কে নিশানা করবে মার্কিন বাহিনী। ছোট পরিসরে চলবে হামলা। কেশম দ্বীপ হামলা তারই অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের অভিযান মূলত প্রতিরক্ষামূলক। তাঁদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। সেই প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ইরান যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে গত ২ জুন মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল। তাদের মতে, ওই দ্বীপটিতে ইরানের একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ছিল, যা ড্রোন কার্যক্রম পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল যে, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী অসামরিক জাহাজগুলোর দিকে ধেয়ে আসা তিনটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী ড্রোন) তাদের বাহিনী প্রতিহত করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের উৎক্ষেপিত আরও বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও তারা রুখে দিয়েছিল। পরবর্তীতে, এই দ্বীপে অবস্থিত ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।