Iran Sleeper Cell Report: খামেনেইর মৃত্যুর পরেই বিশ্বজুড়ে স্লিপার সেল সক্রিয় করেছে ইরান, দাবি রিপোর্টে
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বিদেশে 'স্লিপার অ্যাসেট' সক্রিয় করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য 'বার্তা' পাঠিয়েছে। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই নিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে গোয়েন্দাদের তরফ থেকে।
আমেরিকা ও ইজরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল সেই দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। সেই হত্যাকাণ্ডের পরপরই নাকি ইরান বিশ্বজুড়ে তাদের স্লিপার সেলগুলিকে সক্রিয় করেথে। এই সংক্রান্ত একটি এনক্রিপ্টেড বার্তা নাকি ধরা পড়ে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দাদের কাছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজায়রায়েল ভারী বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরানও ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আরও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ইজরায়েল লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর উপরও হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে এই জঙ্গি গোষ্ঠীটিও ইজরায়েলে তাদের রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এই আবহে এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বিদেশে 'স্লিপার অ্যাসেট' সক্রিয় করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য 'বার্তা' পাঠিয়েছে। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই নিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে গোয়েন্দাদের তরফ থেকে। একটি ফেডারেল মেমোর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তাটি পূর্বনির্ধারিত স্লিপার অ্যাসেটকে সক্রিয় করতে বা তাদের কোনও নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার গোয়েন্দারা একটি সম্প্রচার স্টেশনকে শনাক্ত করেছে, যেখান থেকে ইরানের বাইরের বেশ কয়েকটি দেশে বারবার এই বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের মেমোতে বলা হয়েছে, 'যদিও এই সম্প্রচারের সঠিক বিষয়বস্তু বর্তমানে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না, তবে আন্তর্জাতিক ভাবে বার্তা পাঠাতে সক্ষম এক নতুন স্টেশনের আকস্মিক আবির্ভাব উদ্বেগের বিষয়।' এখনই নির্দিষ্ট কোনও স্থানে হামলার হুমকি নেই বলে অবশ্য জানানো হয়েছে সেই মেমোতে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অস্বাভাবিক রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে এবার ইরানের পালটা বক্তব্য, যুদ্ধ কবে শেষ হবে, এবার সেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, 'এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যত এখন আমাদের সামরিক বাহিনীর হাতে। মার্কিন বাহিনী এবার এই যুদ্ধ শেষ করবে না। আমরা সিদ্ধান্ত নেব যুদ্ধ কখন শেষ করতে হবে।'
ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের 'চোখ-কান' হারিয়েছে আমেরিকা। এবং আমেরিকার সাতজন সেনা এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে। সব মিলিয়ে আমেরিকার এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও তারা এই যুদ্ধে ফেঁসে গিয়েছে বলে অনেকের মত। কাতার, কুয়েত, সৌদিতে তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে দূতাবাসে হামলা চলছে।
এরই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে ইরান তাণ্ডব চালানোর জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের সংকটে ভুগতে পারে গোটা বিশ্ব। কারণ এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, ইরান বিরুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়েছে। তাই এই যুদ্ধের আর কোনও প্রয়োজন নেই। তবে আদতে এই সংঘাত এখনও জারি রয়েছে। পশ্চিম এশিয়া জ্বলছে। ট্রাম্পের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে খামেনেইর পুত্র মোজতাবাকে সর্বোচ্চ নেতা করেছে ইরান। ইরানের মৌলবাদী শাসকরা তাই এত সহজে হয়ত ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে কেটে পড়তে দেবে না।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper











