Iran war Impact on India: ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ভারতের মৎস্যজীবীদের ওপর, উপকূলে দাঁড়িয়ে শত শত নৌকা
কালোবাজার থেকে একটি সিলিন্ডার কিনতে ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি দিতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। এদিকে উপকূলের কাছে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৮ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইরান তথা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিশ্বের প্রতিটি দেশে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। এই যুদ্ধের জেরে এলপিজি সরবরাহ কমেছে দেশে। একইসঙ্গে ডিজেল ও পেট্রোল নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। এই আবহে গোয়া ও মহারাষ্ট্রের মৎস্যজীবীরাও সমস্যায় পড়েছেন। এই দুই রাজ্যে মৎস্যজীবীদের শত শত নৌকা তীরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক মৎস্যজীবী বলছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের অভাবে নৌকায় খাবার রান্না করতেও সমস্যা হচ্ছে। কালোবাজার থেকে একটি সিলিন্ডার কিনতে ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি দিতে হচ্ছে এই মৎস্যজীবীদের। মুম্বইয়ে বসবাসকারী কোলি সম্প্রদায়ের লোকেরা বলছেন, তাদের নৌকায় ১৫ দিনে প্রায় ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটার ডিজেল খরচ হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বাল্ক ডিজেল নিতে হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাল্ক ফুয়েলের দাম বেড়েছে। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।

মুম্বইয়ে বাল্ক ডিজেলের দাম লিটারে ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা হয়েছে। এমনিতে মহারাষ্ট্র সরকার মৎস্যজীবীদের বাল্ক ডিজেলের ওপর ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তবে মৎস্যজীবীরা বলছেন যে উপকূলের কাছে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৮ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে পকেটে বেশ চাপ বেড়েছে এই মৎস্যজীবীদের। এই আবহে অনেক মৎস্যজীবী মাছ ধরার সময় কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সাধারণত ছোট নৌকা হলে তাতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ জন লোক থাকেন এবং তা ৪ দিনের জন্য সমুদ্রে যায় মাছ ধরতে। এই সময়কালের জন্য তাদের ১টি সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ে আবার বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক থাকে এবং তারা ১৫ দিনের জন্য সমুদ্রে যান সাধারণত। এই ক্ষেত্রে তাদের ৩ থেকে ৪টি সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়ে। তবে সিলিন্ডারের ঘাটতির জেরে তাঁদের অনেকেই সমুদ্রে যেতে পারছেন না।
রিপোর্ট অনুযায়ী, উপকূলীয় রাজ্যগুলির জিডিপিতে প্রায় ২.৫ শতাংশ অবদান মৎস্য খাতের। ডিরেক্টরেট অফ প্ল্যানিং স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন অনুসারে, ২০২৪-২৫ সালে গোয়ার সমুদ্র থেকে ১.২৭ লাখ টন মাছ ধরা পড়েছিল, যার মূল্য প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। বেশিরভাগ মাছ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আমেরিকা, চিন ও ইউরোপে রফতানি করা হয়। মহারাষ্ট্রে প্রায় ৩.৬৫ লাখ মানুষের জীবিকা মাছ ধরা। এর মধ্যে ২৩ হাজারেরও বেশি মৎস্যজীবী মুম্বই বা তৎসংলগ্ন এলারার বাসিন্দা। মহারাষ্ট্রে মৎস্য শিল্প খাতের টার্নওভার প্রায় ৯১২১ কোটি টাকা। এই আবহে আরও ১০ দিন যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে কাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এর প্রভাব মহারাষ্ট্র এবং গোয়া উভয়ের অর্থনীতিতেও পড়বে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


