Iran War impact on Share Market: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আঁচ ভারতের শেয়ার বাজারে! এক ধাক্কায় ৭০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স
প্রি-ওপেনিং ট্রেডে সেনসেক্স ছিল ৭৬,৩৯৭.২৪ পয়েন্টে। নিফটি ছিল ২৩,৮৫২.০৫ পয়েন্টে। পরবর্তী সময়ে কিছুটা ওঠানামা হলেও বাজারের উপর চাপ বজায় থাকে। বুধবার সকালে নিফটি ৫০ প্রায় ০.৮৯ শতাংশ নেমে ২৩,৮৪১.৪০ পয়েন্টে আসে। সেনসেক্সও প্রায় ০.৭৯ শতাংশ পড়ে ৭৬,৩৩৩.২০ পয়েন্টে নেমে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা। তার সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের শেয়ার বাজারে। বুধবার বাজার খুলতেই বড়সড় পতন দেখা গেল সেনসেক্স ও নিফটিতে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার খবরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। বাজার খোলার প্রথম মিনিটেই সেনসেক্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। নিফটিও প্রায় ২০০ পয়েন্ট নেমে যায়। প্রি-ওপেনিং ট্রেডে সেনসেক্স ছিল ৭৬,৩৯৭.২৪ পয়েন্টে। নিফটি ছিল ২৩,৮৫২.০৫ পয়েন্টে। পরবর্তী সময়ে কিছুটা ওঠানামা হলেও বাজারের উপর চাপ বজায় থাকে। বুধবার সকালে নিফটি ৫০ প্রায় ০.৮৯ শতাংশ নেমে ২৩,৮৪১.৪০ পয়েন্টে আসে। সেনসেক্সও প্রায় ০.৭৯ শতাংশ পড়ে ৭৬,৩৩৩.২০ পয়েন্টে নেমে যায়।

এই পতনের মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। রাতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ফের হামলা হয়। ফলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। তাই এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হতে পারে। যুদ্ধের খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৯৫ থেকে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আগের দিনও তেলের দাম এক লাফে চার ডলারের বেশি বেড়েছিল।
তেলের দাম বাড়া ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ। কারণ ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ বাড়ে। চাপ পড়ে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মুদ্রার উপরও। একই সঙ্গে দেশে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। এই কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সতর্কতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার বন্ডের সুদ বাড়লে অনেক বিনিয়োগকারী উন্নয়নশীল দেশের বাজার থেকে টাকা সরিয়ে নিরাপদ সম্পদে যেতে পারেন। ভারতের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
এদিন প্রায় সব বড় খাতেই চাপ দেখা যায়। তেল বিপণন সংস্থা, বিমান পরিষেবা, টায়ার, রঙ এবং অন্যান্য তেল-নির্ভর শিল্পের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ে। অন্যদিকে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে কেনাকাটা দেখা যায়। সান ফার্মা তার মধ্যে অন্যতম। আমেরিকায় ওষুধের দামের বিষয়ে সুবিধাজনক চুক্তির খবরের পর সংস্থার শেয়ারে উল্টো উত্থান দেখা যায়। এর আগের দিনও বাজার খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। মঙ্গলবার সেনসেক্স ১২.৯৯ পয়েন্ট কমে ৭৬,৯৪৪.২৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। নিফটি কমেছিল ২৪.৬০ পয়েন্ট। বন্ধ হয় ২৪,০৫৫.৮০ পয়েন্টে।
অর্থাৎ এক দিনের সামান্য পতনের পর বুধবার বাজারে বড় ধাক্কা এল। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে। ইরান-আমেরিকা সংঘাত আরও বাড়লে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। আর তেলের দাম বাড়লে ভারতের শেয়ার বাজারে চাপও বাড়তে পারে। তাই আপাতত শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কতটা বাড়বে? তার উত্তরই ঠিক করবে ভারতের বাজারের পরবর্তী দিক।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


