Iran War Latest Update: মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ঠেকাতে লেজার অস্ত্র মোতায়েন আমেরিকার, নিয়ন্ত্রণে এক্সবক্সের কন্ট্রোলার

দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের যুদ্ধ দফতর জানিয়েছে, এই লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রোন এবং আসা ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় প্রতিটি হামলায় খরচও অনেক কম হতে পারে।

Published on: Sep 25, 2026, 08:49:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

যুদ্ধের ময়দানে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল আমেরিকা। ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল ঠেকাতে এবার উচ্চ ক্ষমতার লেজার অস্ত্র ব্যবহার করছে মার্কিন সেনা। মধ্যপ্রাচ্যে এই অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, এই অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন সেনারা অনেকটাই ভিডিও গেমের কন্ট্রোলারের মতো দেখতে এক্সবক্স কন্ট্রোলার দিয়ে।

যুদ্ধের ময়দানে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল আমেরিকা। (Bloomberg)
যুদ্ধের ময়দানে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল আমেরিকা। (Bloomberg)

দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের যুদ্ধ দফতর জানিয়েছে, এই লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রোন এবং আসা ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় প্রতিটি হামলায় খরচও অনেক কম হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রায় ৫০ বছর ধরে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে আমেরিকা। এখন সেটিকে পরীক্ষাগার থেকে সরিয়ে সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, দেশের দক্ষিণ সীমান্তেও এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

লেজার অস্ত্রের কাজের পদ্ধতিও বেশ আলাদা। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটি লক্ষ্য ধ্বংস করতে আলাদা একটি ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। কিন্তু লেজার ব্যবস্থায় সেই প্রয়োজন নেই। জেনারেটর অথবা ব্যাটারি থেকে পাওয়া শক্তিকে আলোর কণায় পরিণত করে একটি শক্তিশালী বিম তৈরি করা হয়। সেই আলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর একটি জায়গায় ক্রমাগত তাপ তৈরি করে। তাতেই ড্রোনের সেন্সর নষ্ট করা অথবা পুরো যন্ত্রটি ধ্বংস করা সম্ভব।

ডাইরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টসের প্রধান মার্ক নাইসের বক্তব্য, লেজার দিয়ে খুব নির্দিষ্ট ভাবে ড্রোনকে লক্ষ্য করা যায়। কোথায় আঘাত করা হবে, সেটিও নিখুঁত ভাবে ঠিক করা সম্ভব। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

তবে লেজার অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল তার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। মার্কিন সেনারা বিশেষ ভাবে বদলে নেওয়া এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করছেন। সামরিক মহলের যুক্তি, গেমিং শিল্প যখন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হাতে সবচেয়ে পরিচিত ও সহজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, তখন নতুন করে আলাদা কন্ট্রোলার বানানোর প্রয়োজন কী!

লেজার ওয়ার্স নিউজলেটারের লেখক জ্যারেড কেলারও মনে করছেন, এমন ব্যবস্থা বাস্তব যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা স্বাভাবিক। তাঁর বক্তব্য, হ্যালোর স্পার্টান লেজার গেমে ব্যবহার করে থাকলে বাস্তব লেজার অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও খুব অচেনা মনে নাও হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে থাকা HELIOS নামে লেজার ব্যবস্থার ক্ষমতা প্রায় ৬০ কিলোওয়াট। যুদ্ধজাহাজে বসানো এই অস্ত্র দূর থেকে বিভিন্ন লক্ষ্য ধ্বংস করতে পারে। এ ছাড়া বোয়িং তৈরি করেছে CLWS নামে অপেক্ষাকৃত ছোট লেজার ব্যবস্থা, যা মাঝারি আকারের ড্রোন ধ্বংস করতে পারে।

তবে সব সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। এই অস্ত্রগুলি আকারে ভারী এবং অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধজাহাজেই বসাতে হয়। পরিষ্কার আকাশ না থাকলে কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। একসঙ্গে অনেক ড্রোন হামলা হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে যুদ্ধের রসদ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ গোলাবারুদের মজুতের বদলে বিদ্যুৎ সরবরাহই হয়ে উঠতে পারে অস্ত্র ব্যবহারের মূল ভিত্তি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More