Iran warns US: 'যুদ্ধের নিয়ম বদলে গেছে!' US-কে 'আরও বেদনাদায়ক' জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

Iran warns US: রবিবার এক ভাষণে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর যে কোনও নতুন হামলার জবাব এখন আরও দ্রুত, ভারী ও যন্ত্রণাদায়ক হবে।

Published on: Sep 6, 2026, 19:26:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Iran warns US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে তেহরান ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের 'নিয়ম বদলে গেছে' এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি বুঝতে হবে-'অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই।'

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'আরও বেদনাদায়ক' জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'আরও বেদনাদায়ক' জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

রবিবার এক ভাষণে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর যে কোনও নতুন হামলার জবাব এখন আরও দ্রুত, ভারী ও যন্ত্রণাদায়ক হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে আগের মতো সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়ার নীতি আর প্রযোজ্য নয়। তাঁর বক্তব্য সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরানের সবচেয়ে কঠোর রাজনৈতিক সতর্কবার্তাগুলোর একটি হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

গালিবাফের এই বক্তব্য এসেছে ৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, এতে দুটি জাহাজ অচল হয়ে যায় এবং তৃতীয় একটি খালি জাহাজ ধ্বংস হয়। কোনও মার্কিন সেনা আহত হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজ ইরানের আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়নে ব্যবহৃত একটি গোপন তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মার্কিন হামলার একটি ঘটনা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি ঘটেছে বলে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এসেছে। দ্বীপটি ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলেও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য ছিল। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার কথা বলা হয় এবং জাহাজের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। মার্কিন হামলার পর ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌযানকে লক্ষ্য করেছে এবং 'অননুমোদিত রুটে' চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এসব পাল্টা হামলায় ঠিক কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, ইরানের একটি মার্কিন নৌযানে হামলার দাবি সামনে এলেও সেটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে তেহরানের নতুন হুমকি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক মার্কিন–ইরান উত্তেজনার মধ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।