US attack Chabahar port: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের অশনি সঙ্কেত! ইরানজুড়ে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত চাবাহার বন্দর
US attack Chabahar port: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলস্টেশন-সহ কয়েকটি বেসামরিক কাঠামোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
US attack Chabahar port: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জানা গেছে, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী চাবাহারে মার্কিন হামলায় সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারত আর ইরান যৌথ ভাবে গড়ে তুলেছে। বন্দরের একটি টার্মিনাল সম্পূর্ণ ভাবে ভারত পরিচালনা করে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগত ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চাবাহার বন্দরের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি তৃতীয় হামলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এবং ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, টাওয়ারটির বড় অংশ ধসে পড়েছে। যদিও ছবিটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথও এক্স হ্যান্ডেলে ইরানের ওমান উপসাগরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরের একটি মেরিটাইম কন্ট্রোল বা নজরদারি টাওয়ার ভেঙে পড়ার ছবি শেয়ার করেছেন। তবে এই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলস্টেশন-সহ কয়েকটি বেসামরিক কাঠামোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার (পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টো) নাগাদ শুরু হয় এই বিমান হামলা। এই হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেওয়া।’ সেন্টকমের বলেছে, ‘ফাইটার জেট, ড্রোন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মার্কিন বাহিনী নির্ভূল অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হেনেছে, যা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ কাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার মতো কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ২২ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে, যা সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইরানের প্রথম সরাসরি হামলা বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া, ওমানের ঘান্নেম এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং সালামেহ রকস এলাকায় একটি নৌ রাডার ধ্বংসেরও দাবি করেছে আইআরজিসি।
E-Paper

