Accenture: চিনকে 'বিদায়' জানানোর পথে অ্যাকসেঞ্চার! AI যুগের কৌশলে ১৫০ কোটি ডলারে ব্যবসা বিক্রির ভাবনা সংস্থার

Accenture: এই আনুষ্ঠানিক বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হলে একাধিক শীর্ষ প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থা এবং বাছাই করা কৌশলগত ক্রেতাদের কাছ থেকে বড় ধরনের আগ্রহ দেখা যেতে পারে।

Published on: Oct 19, 2026, 19:00:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Accenture: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর উত্থানের যুগে আন্তর্জাতিক আইটি কনসালটেন্সি সংস্থা অ্যাকসেঞ্চার (Accenture) লাভবান হবে নাকি ক্ষতিগ্রস্ত—তা নিয়ে যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোর বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই চিন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছে সংস্থাটি।

চিনকে 'বিদায়' জানানোর পথে অ্যাকসেঞ্চার! File Photo (REUTERS)
চিনকে 'বিদায়' জানানোর পথে অ্যাকসেঞ্চার! File Photo (REUTERS)

ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলিতে বাড়তি মনোযোগ দিতে এবং এআই যুগে নিজেদের কৌশল আরও জোরদার করতে চিনে তাদের সমগ্র ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার)-এ বিক্রির পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে বিশ্বের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত আইটি পরামর্শদাতা এই সংস্থা। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অবস্থিত অ্যাকসেঞ্চার চিনের ব্যবসা পর্যালোচনার জন্য মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপিমরগান (JPMorgan)-কে দায়িত্ব দিয়েছে। গত এক বছর ধরে একাধিক অযাচিত ও অনানুষ্ঠানিক অধিগ্রহণের প্রস্তাব (Unsolicited approaches) পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে তারা। মূল ভূখণ্ডের চিন, হংকং এবং তাইওয়ান নিয়ে গঠিত অ্যাকসেঞ্চারের এই 'গ্রেটার চায়না' (Greater China) ডিভিশনের বাজারমূল্য হতে পারে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, এই আনুষ্ঠানিক বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হলে একাধিক শীর্ষ প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থা এবং বাছাই করা কৌশলগত ক্রেতাদের কাছ থেকে বড় ধরনের আগ্রহ দেখা যেতে পারে। তবে বিদ্যমান বহুজাতিক ও স্থানীয় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে অ্যাকসেঞ্চার চাইলে সামান্য শেয়ার নিজেদের হাতে রাখতে পারে। যদিও এই আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তা চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ না-ও নিতে পারে।

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা ও এআই বিতর্ক

অ্যাকসেঞ্চারের চিন ছাড়ার এই কৌশলগত পদক্ষেপ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন শেয়ার বাজারে সংস্থাটির শেয়ারে তীব্র ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মনে প্রশ্ন—করপোরেট সংস্থাগুলি এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করায় আইটি কনসালটেন্সি সংস্থাগুলি কী সত্যিই লাভবান হবে, নাকি ক্লায়েন্টরা তাদের অভ্যন্তরীণ কাজের প্রক্রিয়া নিজেরাই এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় রূপান্তর করায় আইটি সংস্থাগুলির ব্যবসা সংকুচিত হবে? এর পাশাপাশি বেজিংয়ের কঠোর ডেটা সুরক্ষা আইন এবং সীমান্ত পার ডেটা স্থানান্তরের ওপর ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির কারণে ম্যাককিনসে (McKinsey)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক পশ্চিমা সংস্থা ইতিমধ্যেই চিনে কার্যক্রম কমাতে শুরু করেছে।

চিনে বিক্রি থেকে আসা বিপুল অর্থ কোথায় কাজে লাগবে?

চিন থেকে প্রাপ্ত এই বিপুল অর্থ অ্যাকসেঞ্চারকে দীর্ঘমেয়াদে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করতে সাহায্য করবে। সম্প্রতি এক বিনিয়োগকারী সম্মেলনে সংস্থার চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) অ্যাঞ্জি পার্ক উল্লেখ করেন, যেসব ব্যবসা বা আঞ্চলিক পরিচালনা কৌশলগত লক্ষ্যের তুলনায় প্রত্যাশিত রিটার্ন দিতে পারে না, তা থেকে সরে আসার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে অ্যাকসেঞ্চারের। এই অর্থ মূলত গ্রাহকদের আকর্ষণীয় মূল্যছাড়, এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন সংস্থা অধিগ্রহণ এবং শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে পুনর্বিনয়োগ করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। করপোরেট দুনিয়ায় এআই গ্রহণের ওপর ভর করে চলতি দশকের শেষের দিকে তাদের প্রবৃদ্ধি ব্যাপক গতি পাবে বলে আশাবাদী অ্যাকসেঞ্চার।