মোজতবা খামেনেই কী সত্যিই মৃত্যুমুখে? রহস্যের মধ্যেই ভিডিও প্রকাশ ইরানের, কেমন আছেন সুপ্রিম লিডার?
Mojtaba Khamenei: এর আগে শুক্রবার ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক।’
Mojtaba Khamenei: ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei) শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা অব্যাহত। এরই মাঝে সম্প্রতি ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক এবং তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সেই জল্পনা ও গুজব উড়িয়ে দিয়ে তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সে দেশের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। শনিবার টেলিগ্রামে প্রকাশ করা ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সর্বোচ্চ নেতাকে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছে, তাতে মোজতবাকে বেশ সুস্থ ও স্বাভাবিকই দেখিয়েছে। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বসে কোনও বিষয়ে আলোচনাও করছিলেন তিনি। কিন্তু ভিডিওটি ঠিক কবে এবং কোন সময়ের, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। ফলে বিশ্বজুড়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য পুরোপুরি মিটেছে এমনটা বলা যাচ্ছে না। এর আগে শুক্রবার ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক।’ ইজরায়েলি ‘চ্যানেল ১৪’ ইরানের ভেতরের কয়েকটি সূত্র উদ্ধৃত করে এ দাবি করেছে। একই সময়ে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরানওয়্যার এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়, খামেনেইর স্বাস্থ্য নিয়ে ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর একটি সূত্র এমনও দাবি করে, শিগগিরই খামেনেইর মৃত্যুর খবর এলেও তারা অবাক হবে না।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। বরং নতুন ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় প্রয়াত হন ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেই সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে তিনি একবারের জন্যও প্রকাশ্যে আসেননি, এমনকী বাবার শেষকৃত্যেও তাঁকে দেখা যায়নি। মাঝখানে কেবল কয়েকটি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই তিনি বার্তা পাঠিয়েছেন। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তাঁর স্বাস্থ্য, অবস্থান এবং দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বাবার কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দফার হামলায় মোজতবা খামেনেই আহত হন। কিছু প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ওই হামলায় তাঁর মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং চেহারায় পরিবর্তন আসে। এ কারণে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না বলেও ধারণা করা হয়। হামলার পর নিজেকে নিরাপদ রাখতে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ঝুঁকি এড়াতে তিনি ধীরগতির মধ্যস্থতাকারীদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এ সব দাবি ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মোজতবার অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও (Masoud Pezeshkian) তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনেইর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা এখন ‘খুব কঠিন।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর খামেনেই কোথায় আছেন এবং কিভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। মোজতবা খামেনেইর অবস্থান ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে শুধু ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
পুরনো ভিডিও?
মেহর নিউজের প্রকাশ করা ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট দাবি করে, ভিডিওটি পুরনো এবং মোজতবার স্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট সংবাদমাধ্যম এটি প্রকাশ করেছে। ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর নীতি পরিচালক জেসন ব্রডস্কি তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করেন, ভিডিওটি যুদ্ধের আগের এবং মার্চ মাসেও এটি প্রচারিত হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মেহর নিউজ কেন মোজতবার পুরোনো ভিডিও প্রচার করার প্রয়োজন বোধ করছে। এদিকে, ‘মিডল ইস্ট ২৪’ নামের আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দাবি করেছে, ইরানের মানুষই ভিডিওটিকে পুরনো হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তাদের দাবি, এটি কোমে মোজতবার দেওয়া পুরনো বক্তৃতার ভিডিও। তবে ভিডিওটি আসলে কখন করা হয়েছিল এবং এতে মোজতবা রয়েছেন কিনা- এ বিষয়ে এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
E-Paper

