Sharad Pawar: এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি শরদ পাওয়ারের? মারাঠা রাজনীতির রুদ্ধদ্বার আলোচনার নেপথ্যের কাহিনী
Sharad Pawar: গত দুই সপ্তাহে শরদ পাওয়ার এবং তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা যেভাবে একের পর এক বৈঠক করেছেন, তা দেখে অনেকেই অনুমান করছেন যে, বর্ষীয়ান নেতা এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার পথ হয়তো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন।
Sharad Pawar: বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ার এবং তাঁর এনসিপি-কে ঘিরে সাম্প্রতিক তৎপরতা রাজনৈতিক অলিন্দে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনার পারদ চড়িয়েছে। বর্তমানে বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার আপাত দৃষ্টিতে স্থিতিশীল বলে মনে হলেও, মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে শরদ পাওয়ারের নেওয়া যে কোনও সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিকে নিমেষে বদলে দিতে পারে।

‘এনডিটিভি’-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে শরদ পাওয়ার এবং তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা যেভাবে একের পর এক বৈঠক করেছেন, তা দেখে অনেকেই অনুমান করছেন যে, পওয়ার এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার পথ হয়তো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। নিশ্চিতভাবেই বিজেপি শিবিরের আশা ঠিক এমনই। কারণ, সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদী সরকার যদি বিতর্কিত ‘ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬’ পাস করানোর জন্য দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে, তবে লোকসভায় পাওয়ারের ৮ জন সাংসদের সমর্থন তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও নির্ণায়ক সংখ্যাবল হিসেবে কাজ করবে। তবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি রয়েছে যে, শরদ পাওয়ার কোনও দিনও তাঁর আসল রণকৌশল বা ‘হাতে থাকা তাস’ সহজে প্রকাশ্যে আনেন না। ফলস্বরূপ, দেশের অন্যতম বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী এই রাজনীতিকের মানসিকতা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগেভাগে অনুমান করতে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই বোকামি হবে।
শরদ পাওয়ারের চালে দিশাহারা মহারাষ্ট্র রাজনীতি
সমস্ত পূর্বাভাস ও জল্পনা সত্ত্বেও এটি স্পষ্ট যে, শরদ পাওয়ার বর্তমানে তাঁর দল এনসিপি (এনসিপি-এসপি)-কে এনডিএ শিবিরে নিয়ে যাওয়ার লাভ-ক্ষতি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হিসেব কষে দেখছেন। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে-উভয়ের সঙ্গেই পৃথক বৈঠক করেছেন। এই হাই-ভোল্টেজ সাক্ষাতের পরপরই শরদ পাওয়ারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুগামী তথা মহারাষ্ট্রের বিধায়ক জয়ন্ত পাতিল গভীর রাতে ফড়নবীশের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকে প্রয়াত অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী এনসিপি গোষ্ঠীর দুই শীর্ষ হেভিওয়েট নেতা-প্রফুল্ল প্যাটেল এবং সুনীল তটকরেও উপস্থিত ছিলেন। এর ঠিক দুই দিন পর জয়ন্ত পাতিল, পাওয়ার শিবিরের আরেক অনুগত নেতা জীতেন্দ্র আওহাদকে সঙ্গে নিয়ে একনাথ শিন্ডের সঙ্গে দেখা করেন। একটি রুদ্ধদ্বার কক্ষে ঘণ্টাব্যাপী চলে সেই আলোচনা। এমনকী, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে দিল্লিতে হতে চলে এনডিএ-র এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার সূচিও এই বৈঠকের কারণে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন শিন্ডে।
এর ঠিক দুই দিন পর জয়ন্ত পাতিল, পওয়ার শিবিরের আরেক অনুগত নেতা জীতেন্দ্র আওহাদকে সাথে নিয়ে একনাথ শিন্ডের সাথে দেখা করেন। একটি রুদ্ধদ্বার কক্ষে ঘণ্টাব্যাপী চলে সেই আলোচনা। এমনকী, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে দিল্লিতে হতে যাওয়া এনডিএ-র এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার সূচিও এই বৈঠকের কারণে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন শিন্ডে। এত তৎপরতা সত্ত্বেও যদি পাওয়ার শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এসে থাকে, তবে তার পেছনে পর্দার আড়ালে ঘুঁটি সাজানো দ্বিতীয় একটি অত্যন্ত প্রলোভনসুলভ বিকল্প কাজ করছে। আর তা হলো-নিজের খণ্ডবিখণ্ড দলকে পুনরায় এক ছাতার তলায় এনে পশ্চিম মহারাষ্ট্রে 'পাওয়ার পরিবারের' রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও প্রভাব পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা।
অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাইপো অজিত পাওয়ারের অকাল মৃত্যু না হলে হয়তো এতদিন পুনর্মিলন সম্পূর্ণ হয়ে যেত। প্রসঙ্গত, অজিত পাওয়ার দল ভেঙে, এনডিএ-তে যোগ দিয়ে এবং উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন এমভিএ সরকারের পতন ঘটিয়ে কাকা শরদ পাওয়ারকে ব্যক্তিগতভাবে চরম ধাক্কা দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি শরদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি)-কে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করেছিলেন। তবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে এসে প্রবীণ পাওয়ারের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে এবং অজিত পাওয়ার নিজে দুই গোষ্ঠীর একত্রীকরণের জন্য আলোচনা শুরু করেছিলেন।
স্থানীয় নির্বাচনের পর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এই ঐতিহাসিক পুনর্মিললের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো আঘাত হানে। এই ব্যক্তিগত শোকের পাশাপাশি শরদ পাওয়ারের দল জোড়া লাগানোর পুরো ছকটি এলোমেলো হয়ে যায়। কারণ, বিজেপি তড়িঘড়ি অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে প্রয়াত স্বামীর রাজনৈতিক ব্যাটন হাতে তুলে নিতে রাজি করায় এবং ফড়নবীশের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসিয়ে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে।
বিজেপির অপেক্ষা
মহারাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক গতিবিধি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে নিশ্চয়ই চরম উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বিজেপি। এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর এই সম্ভাব্য পুনর্মিলনকে যে কোনও মূল্যে আটকানোই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শরদ পাওয়ারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ঠিক কতটা, তা বিজেপি নেতৃত্ব খুব ভালো করেই জানে; আর ঠিক সেই কারণেই পাওয়ারের বিষয়ে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেয় গেরুয়া শিবির। লক্ষণীয় বিষয় হলো-চলতি বছরের শুরুর দিকে পাওয়ারের রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি তাঁকে আটকানোর কোনও চেষ্টাই করেনি, যা অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তাদের নেওয়া আগ্রাসী কৌশলের সম্পূর্ণ বিপরীত।
E-Paper

