'এটা করবেন না...,' ইরানে হামলায় নয়া মোড়, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর?

সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইজরায়েলের হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে।

Published on: Mar 20, 2026, 20:44:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলা তৃতীয় সপ্তাহের শেষে এসে আরও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। উভয়পক্ষই আক্রমণের নিরিখে নিজেরা এগিয়ে বলে দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য সামনে এল। সূত্রের খবর, ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ফিল্ডে ইজরায়েলের হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্ভবত মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে। অন্তত ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা থেকে তেমনই ইঙ্গিত মিলছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর?
ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর?

সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইজরায়েলের হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। যা আগে থেকেই বিশ্বব্যাপী চড়া জ্বালানির দামকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের উপসাগরীয় মিত্ররা নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্পের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

ইরান-মার্কিন যুদ্ধের লক্ষ্য

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইরানের ওপর হামলা শুরুর সময় যেভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু, সেই সম্পর্ক আদৌ আর বজায় আছে কিনা। তাঁদের মধ্যে কী তীব্র দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে? জাপানের প্রধানমন্ত্রী সেনাই তাকাইচির সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের ওপর ইজরায়েলের হামলা তিনি সমর্থন করেননি। নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি ওঁকে বলেছিলাম, এটা করবেন না। আমরা একসঙ্গে ভাল চালাচ্ছিলাম। পারস্পরিক সহযোগিতা করছিলাম। কিন্তু মাঝেমধ্যে উনি এমন কিছু একটা করেন। আর যদি আমার সেটা পছন্দ না হয় - তাই আমরা এখন আর সেটা করি না।'

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লক্ষ্য কী?

এই নিয়ে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন যে ইজরায়েল একাই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, 'কেউ কী সত্যিই মনে করে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কেউ বলে দিতে পারে কী করতে হবে?' তাঁর কথায়, 'আমি ৪০ বছর ধরে বলে আসছি যে ইরান ইজরায়েল এবং বিশ্বের জন্য একটি বিপদ। এটা সত্যি। আপনারা জানেন আর কে এ কথা বলেছেন? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।' নেতানিয়াহু আরও যোগ করেন, 'আমার মনে হয় না যে আমাদের মতো (ট্রাম্প ও আমি) অন্য কোনও নেতা এত সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। তিনি নেতা, আর আমি তাঁর মিত্র।'

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র। আর এর একটা অংশেই হামলা করেছিল ইজরায়েল। এই প্রসঙ্গে প্রথম সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে। তাঁর কথায়, 'আমি তাঁকে জানিয়েছি এমন না করতে। তিনি এই বিষয়ে আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন।' তিনি বলেন, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা সমন্বয় থাকলেও দুই দেশই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে যে তারা কে কী করবে। তবে, কখনও কখনও ইজরায়েলের কোনও পদক্ষেপ তাঁর পছন্দ না হলে তিনি তা থামানোর চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।