Islamic Nato Pakistan Latest Update: মক্কা চুক্তির প্রথম পরীক্ষায় ব্যর্থ পাকিস্তান? মুনিরের এক ফোনেই জোটের ১২টা বাজল?
গত সপ্তাহে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের মোখা এবং পেরিম দ্বীপ দখল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাকে সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নামানোর কোনও তাড়াহুড়ো দেখা যায়নি।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল প্রথম বড় সংকটেই। সৌদি আরবের পাশে সরাসরি দাঁড়ানোর বদলে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা গেল পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরব, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই কি আপাতত সাবধানে এগোচ্ছে পাকিস্তান?
গত সপ্তাহে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের মোখা এবং পেরিম দ্বীপ দখল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাকে সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নামানোর কোনও তাড়াহুড়ো দেখা যায়নি। বরং একই সময়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
এই ফোনালাপের পর থেকেই পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, মক্কা চুক্তির অন্যতম মূল লক্ষ্যই হল সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বড় ধরনের সংকটে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো। সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই আলোচনা ও চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের আগস্টে এটিকে ‘মক্কা চুক্তি’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হয়। এর সচিবালয় রিয়াদে এবং প্রথম তিন বছরের সভাপতিত্ব পাকিস্তানের হাতে রয়েছে।
যদিও এখনও চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের উপর বিনা উসকানিতে হামলা হলে বা ইয়েমেনের যুদ্ধের প্রভাব সৌদি ভূখণ্ডে পৌঁছলে এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদানও জানিয়েছেন, ন্যাটোর মতোই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে পারে। এই কারণেই অনেকের কাছে চুক্তিটি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তানের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া এত সহজ নয়। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ থেকে পাকিস্তান বৈদেশিক মুদ্রা, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহায়তা এবং আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকে। প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবু ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ইসলামাবাদের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামলে ইরান ও তার সহযোগীদের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়বে।
এর পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বড় কারণ। দেশে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামলে অভ্যন্তরীণ অশান্তি বা রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা। গত এক বছরে আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি স্বার্থে এমন কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া, যা ওয়াশিংটনের নীতির সঙ্গে সংঘাতে যেতে পারে, সেটিও ইসলামাবাদ এড়াতে চাইতে পারে।
ফলে মক্কা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষাতেই পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আপাতত সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক পাশে দাঁড়ানোর বদলে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে ইসলামাবাদ। তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—চুক্তির সদস্য হয়েও কি পাকিস্তান বাস্তবে ‘সবার সঙ্গে ভারসাম্য’ নীতিই অনুসরণ করবে?
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


