ইজরায়েলে হামলায় ‘ক্লাস্টার বোমা!’ ইরানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, মদতে রাশিয়া-চিন?

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মত, ক্লাস্টার বোমার মধ্যে যে ছোট ছোট বোমাগুলি থাকে, একক বোমা হিসাবে তা খুব একটা ভয়ানক নয়।

Published on: Mar 5, 2026, 12:16:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বম্ব’ ব্যবহার করছে ইরান। তেল আভিভ লক্ষ্য করে এই মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। এমনটাই দাবি করল ইজরায়েলি সেনা। সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতে এই প্রথম ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার করা হল। যদিও ইরান সেই দাবিকে খারিজ করেছে।

ইজরায়েলে হামলায় ‘ক্লাস্টার বোমা!’
ইজরায়েলে হামলায় ‘ক্লাস্টার বোমা!’

কী এই ক্লাস্টার বোমা?

ক্লাস্টার বোমা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। ইংরেজিতে ‘ক্লাস্টার’ শব্দের অর্থ ‘একগুচ্ছ।’ ক্লাস্টার বোমার মধ্যে আসলে থাকে একগুচ্ছ ছোট ছোট বোমা। ছোট, কিন্তু শক্তিশালী। একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মোড়কে ওই ছোট বোমাগুলি ভরা থাকে। উৎক্ষেপণের পর শূন্যেই খুলে যায় ক্লাস্টার বোমার অস্ত্র-মুখ। ভিতর থেকে ছোট ছোট বোমাগুলি বেরিয়ে আসে এবং বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক বেশি হয়। ক্লাস্টার বোমার আরও একটি বিশেষত্ব হল, এরমধ্যে থাকা ছোট বোমাগুলির কোনও কোনওটি মাটিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ফাটে না। কোনও কিছুর সংস্পর্শে এলে তবেই ঘটে বিস্ফোরণ। অর্থাৎ, জনবহুল এলাকা না হলে এবং কিছুর সংস্পর্শে না এলে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এই বোমা সক্রিয় থেকে যেতে পারে।

ইজরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান সদ্য যে ক্লাস্টার বম্ব মিসাইল ছুড়েছে, সেটির মুখ মাটি থেকে সাত কিলোমিটার উচ্চতায় খুলে গিয়েছিল। তা থেকেই বেরিয়ে এসেছে অন্তত ২০টি বোমা। গিয়ে পড়েছে তেল আভিভ এবং তার আশপাশের এলাকায়। তবে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতে এই ধরনের বোমা ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ইরান এই অস্ত্র পেল কোথা থেকে? ইজরায়েলের বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, ইরানকে এই অস্ত্র দিয়ে মদত জোগাচ্ছে চিন এবং রাশিয়া। যদিও চিন বা রাশিয়ার তরফে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে আইডিএফ-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র তথা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোসানি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ক্লাস্টার বোমা জুড়ে দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এবং ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই বোমার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি শোসানির। এক বিবৃতিতে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, ‌‌'ইজরায়েলি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা সংস্থার একাধিক ইউনিট বর্তমানে মধ্যাঞ্চলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে কাজ করছে। হামলার পর সেখানকার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

ইজরায়েলি চিকিৎসকরা বলেছেন, ইরানের সর্বশেষ এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইজরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ১২ জন সামান্য আহত হয়েছেন। ইজরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন বলেন, 'আমরা ইজরায়েলি ফ্রন্টের উল্লেখযোগ্য হুমকিস্বরূপ কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী ধ্বংস করেছি।' তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারীগুলো স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাব।' তবে শাসকগোষ্ঠীর এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, যে আমাদের প্রতিরক্ষা দুর্ভেদ্য নয়।'

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মত, ক্লাস্টার বোমার মধ্যে যে ছোট ছোট বোমাগুলি থাকে, একক বোমা হিসাবে তা খুব একটা ভয়ানক নয়। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলি বোমা পড়লে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। ইরানের অন্যান্য ব্যালিস্টিক মিসাইলের চেয়েও এগুলি ভয়ানক, বিশেষত জনবহুল এলাকায়। ২০০৮ সালে ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশন’ নামে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছিল। তাতে ক্লাস্টার বোমার সংরক্ষণ, পরিবহণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১১১টি দেশ এবং ১২টি সংগঠন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল, ইরানের মতো প্রধান সামরিক শক্তিগুলি এই চুক্তিতে সম্মত হয়নি। ২০২৩ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইউক্রেনে ক্লাস্টার বোমার জোগান দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।