Flydubai flight incident: বিদেশি ফ্লাইট যাচাইয়ে গাফিলতি? ফ্লাইদুবাই কাণ্ডের পর মুখ খুলল ইজরায়েল
Flydubai flight incident: ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, সেটিকে সরকারি ভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে চিহ্নিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
Flydubai flight incident: বিদেশি এয়ারলাইন্সের ইজরায়েলগামী বিমানে নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব পালনে সে দেশের পরিবহণ মন্ত্রক বছরের পর বছর ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভ্যন্তরীণ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে আর্মি রেডিও। এই আবহে ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মুখে ইজরায়েলের পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে যে তারা দেশে প্রবেশকারী বিদেশি বিমান চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা অতীত ইতিহাস যাচাই করে না এবং এই ধরনের বিমানগুলো যে '১০০ শতাংশ' নিরাপদ, সে বিষয়েও কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

ইজরায়েলি দৈনিক ‘ওয়াইনেট’ (Ynet)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবহণ বিভাগের এক প্রতিনিধি এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমরা কোনও গোয়েন্দা সংস্থা নই যে বিদেশিদের গোপন তথ্য খতিয়ে দেখব। বিদেশে আমাদের কোনও বাহিনী মোতায়েন নেই। সেখানে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর নজরদারি করার মতো কোনও কর্মীও আমাদের নেই।' ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে কমান্ডিং ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আক্রমণকারী ওমানি কো-পাইলট পূর্বে ওমান এয়ারে বিমান চালাতেন; তবে কট্টরপন্থী মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে সেখান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি ককপিটে সাধারণত রাখা জরুরি সরঞ্জাম ‘ক্র্যাশ এক্স’ (কুঠার) দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর চড়াও হয়েছিলেন।
ইজরায়েলের পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো থেকে কতজন পাইলট বিমান চালিয়ে এযাবৎ ইজরায়েলে এসেছেন তা তাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয় এবং বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট যে সম্পূর্ণ নিরাপদ, সেই নিশ্চয়তাও তারা দিতে পারবে না। তারা আরও স্পষ্ট করে যে, পাইলটদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর ওপরই বর্তায়। গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে ঘটনাটি ঘটে। ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি ওড়ার সময় আচমকা বিপদ সংকেত পাঠায় এবং ৩৪,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে এক ধাক্কায় ১৭,০০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে এই পরিস্থিতির পরও বিমানটি কীভাবে সলিল সমাধি হওয়া বা ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পেল। চরম সংকটের মুখে বিমানটিকে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে সফররত অন্যান্য ক্রু সদস্যরা বিমানটির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং নিরাপদে নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, সেটিকে সরকারি ভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে চিহ্নিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর জানিয়েছে, বিমানের ওমানি কোপাইলট হামাম আলহামামি ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, বীর ক্যাপ্টেন স্মিতকে উন্নত ও সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
E-Paper

