Israel Slams Pakistan: 'সন্ত্রাসবাদীদের থেকে...,' আসিফের ‘ক্যানসার' বক্তব্যে সুর চড়াল ইজরায়েল, বিপাকে পাকিস্তান?

Israel Slams Pakistan: এই বিতর্কের মধ্যেই ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের আগমন শুরু হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Published on: Apr 10, 2026, 22:42:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Israel Slams Pakistan: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নির্ধারিত শান্তি বৈঠকের আগে পাকিস্তানকে ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ল। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ-এর মন্তব্যে পাল্টা তোপ দাগল জানাল ইজরায়েল। লেবাননের উপরে হামলার জন্য ইজরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং ‘ক্যান্সারের মতো’ আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। এবার ইসলামাবাদকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে কটাক্ষ করলেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার। একই সঙ্গে খাওয়াজার ওই মন্তব্যকে তিনি ‘ইহুদি-বিরোধী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

আসিফের ‘ক্যান্সার' বক্তব্যে সুর চড়াল ইজরায়েল
আসিফের ‘ক্যান্সার' বক্তব্যে সুর চড়াল ইজরায়েল

ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইজরায়েলকে ‘ক্যান্সারের মতো’ আখ্যা দেওয়া কার্যত নিজের ধ্বংস ডেকে আনার শামিল। শুক্রবার নিজের এক্স-হ্যান্ডলে গিডিয়ন সার লেখেন, ‘শান্তির জন্য মধ্যস্থতার’ দাবিদার একটি সরকারের পক্ষ থেকে আসা এই নির্লজ্জ ইহুদি-বিদ্বেষী অপবাদকে ইজরায়েল অত্যন্ত গুরুতর ভাবে দেখছে। ইহুদি রাষ্ট্রকে ‘ক্যান্সারের মতো’ আখ্যা দেওয়া কার্যত নিজেদের বিনাশের আহ্বান জানানোরই নামান্তর। যারা ইজরায়েলকে ধ্বংস করার শপথ নেয়, সেই সব সন্ত্রাসবাদীদের থেকে ইজরায়েল আত্মরক্ষা করবে।’ শুধু বিদেশমন্ত্রী নন, খাওয়াজার এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতরও। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যে দেশ নিজেদের শান্তিস্থাপনের কাণ্ডারী বলে দাবি করে তাদের থেকে এমন মন্তব্য মোটেই বরদাস্ত করা হবে না।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর দফতর জানায়, '‘ইজরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করার যে ডাক দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই বিবৃতিটি কোনও সরকারের কাছ থেকে বরদাস্ত করা যায় না। বিশেষ করে এমন একটি সরকারের কাছ থেকে নয় যে নিজেকে শান্তির জন্য একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী বলে দাবি করছে।’ এই যাবতীয় সমালোচনার সূত্রপাত হয় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পরে। আসিফ বলেন, ‘ইজরায়েল শয়তান এবং মানবতার জন্য অভিশাপ। ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, সেই সময় লেবাননে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে ইজরায়েল। প্রথমে গাজায়, তারপর ইরানে, এখন লেবাননে। রক্তপাত অব্যাহত রয়েছে। আমি আশা করছি এবং প্রার্থনা করছি যে যাঁরা ইউরোপিয়ান ইহুদিদের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্যালেস্তাইনের মাটিতে এই ক্যানসার দেশকে তৈরি করেছে, তাঁরা যেন নরকে পুড়ে যান।' তবে ইজরায়েলের তরফে প্রতিক্রিয়ার আসতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে থেকে বিতর্কিত পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছেন আসিফ।

এই বিতর্কের মধ্যেই ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের আগমন শুরু হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. রেজা আমিরি মোগাদ্দামও প্রতিনিধি দলের অংশ হবেন। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মন্ত্রীর মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।